হেডলাইন

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর বার্তা দিয়ে ম্যাপিংয়ের কাজে সাতদিনের ডেডলাইন জ্ঞানেশ ভারতীর

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

আর দেরি নয়, সাতদিনের মধ্যেই ভোটার ম্যাপিংয়ের কাজ শেষ করুন। বুধবার রাজ্য সিইও দফতরে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা বাদে সমস্ত জেলাশাসক, ইআরও, এইআরও-দের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তিবর্ষ ধরে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ভোটারদের অস্তিত্ব যাচাই করার কাজে দেরি হচ্ছে কেন? এদিনের বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। তার আগে জেলাশাসকদের কাছে ভোটার ম্যাপিংয়ের কাজের অগ্রগতি নিয়ে তথ্য নেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। তথ্য অনুযায়ী সব জেলাতেই কমবেশি ৪০ শতাংশ কাজ এখনও শেষ হয়নি। রাজ্যের সিইও সহ জেলাশাসকরা পুজোর ছুটির প্রসঙ্গ তুললেও সেই বিষয়টি আমল দিতে নারাজ ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। “এসআইআর গোটা দেশের জন্য। শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়। অন্যান্য রাজ্যে কাজ শেষ অথবা কোথাও কাজ শেষ পর্যায়ে সেখানে এরাজ্য পিছিয়ে পড়লে কার্যত গোটা দেশে এসআইআর প্রক্রিয়া বাধা পাবে। তাই সাতদিনের বেশি সময় দেওয়া যাবে না।” মন্তব্য সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর। তবে রাজ্যে কবে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে তা নিয়ে এদিনের বৈঠকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। তবে বিহারে যদি সফলভাবে এসআইআর করা যায় তাহলে পশ্চিমবঙ্গে আরও ভালোভাবে এসআইআর করা সম্ভব। এদিন রাজারহাটের বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী।

ভোটার তালিকা তৈরি থেকে তালিকার যাচাইকরনের কাজে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও -রা। সেই বিএলও-দের কাজকর্ম কেমন চলছে অথবা ভোটার তালিকা তৈরির কাজের স্বচ্ছতা আনতে নির্বাচন কমিশন যে নয়া ডিজিটাইজড পদ্ধতি অবলম্বন করেছে সে ব্যাপারে তারা কতটা প্রশিক্ষিত তা এই বৈঠকে যাচাই করেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। বাস্তবিকভাবেই প্রসঙ্গ ওঠে বিএলও-দের কাজে ইআরওনেট অ্যাপসের কার্যকারিতা নিয়ে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী যখন একজন বিএলও এনামুরেশন ফর্ম নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচাই এর কাজ করতে যাবেন ঘটনাস্থল থেকেই এই ইআরওনেট অ্যাপসে ভোটারের যাবতীয় বিবরণ লিপিবদ্ধ করতে হবে বিএলও-কে। এই নির্দিষ্ট অ্যাপসের মাধ্যমে গোটা তথ্য নজরদারি করবে নির্বাচন কমিশন। সেক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সম্বন্ধে বিএলও-রা কতটা ওয়াকিবহাল এদিনের বৈঠকে তা খতিয়ে দেখেন কমিশনের প্রতিনিধিদল। কমিশন সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিজি সীমা খান্না বিএলও-দের সার্বিক কার্যকারিতা বিশেষ করে প্রযুক্তি নির্ভরতায় যথেষ্ট খুশি নন। অবিলম্বে এক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের কাজ শেষ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন সীমা খান্না। প্রয়োজনে বিএলও-দের ক্লাষ্টার তৈরি করে যারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তাদের দিয়ে তুলনায় কম প্রশিক্ষিত বিএলও-দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, পরামর্শ নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের। এদিনের বৈঠকে ভোটার তালিকায় কারচুপির কথা ফের স্মরণ করিয়ে দেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। বিশেষ করে এসআইআর চলার সময় এ ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে সে ব্যাপারে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই বিহারে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী সময়ে এ ধরনের পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য সিইও দপ্তরে বৈঠক শেষ করে উত্তর চব্বিশ পরগনার রাজারহাটে জেলা পরিষদ ভবনের অডিটরিয়ামে রাজারহাট-গোপালপুর এবং রাজারহাট- নিউটাউন এই দুই বিধানসভার নির্বাচন কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। এরপর উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলাশাসকের দপ্তরেও জেলার সমস্ত ইআরও এবং এইআরও-দের নিয়ে বৈঠক করেন কমিশন। উল্লেখযোগ্য, দুর্যোগ বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে এদিনের বৈঠক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও দুই দিনাজপুর ও মালদহ জেলার নির্বাচন আধিকারিকরা এদিনের ভিডিও কনফারেন্সে হাজির ছিলেন।

Share with