বিশেষহেডলাইন

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যুহে সিইও, রাজ্যের ভূমিকায় ক্ষোভ

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও ইনসাসধারী কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বলয়ের ঘেরাটোপে আবদ্ধ হলেন। তবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নয় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। এসআইআর পর্বের প্রাথমিক পর্যায়ের শেষেই এই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা যেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার ‘বজ্র আঁটুনি’ কি হতে পারে তার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা। আগামী ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবসে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাস ও এসআইআর নিয়ে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রকাশ করতে চলেছে সিইও দপ্তর। নির্বাচনী গণতন্ত্রের নানা কোলাজের মধ্যে সিইও-র কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার ছবিটিও যে সংযুক্ত থাকবে তা বলাই বাহুল্য। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ কি নয়া রূপান্তর? ” কেন্দ্র বা রাজ্যের নই, আমি বরাবরই নির্বাচন কমিশনের সিইও ” মন্তব্য মনোজবাবুর।

উল্লেখযোগ্য, শনিবার থেকে রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালকে’ ওয়াই প্লাস ‘ ক্যাটেগরি নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই রাজ্য সিইও দপ্তরে ১১ জন কেন্দ্রীয় জওয়ান সিইও-র নিরাপত্তার কাজে যুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুই থেকে তিনজন সর্বক্ষণ ছায়াসঙ্গী হিসেবে দপ্তর এবং দপ্তর থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে সিইও-র
নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন। এদের মধ্যে কয়েকজন এসপিজি নিরাপত্তায় যুক্ত ছিলেন। একইসঙ্গে সিইও দপ্তরের মূল প্রবেশপথে এবং ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলের প্রবেশদ্বারে যেখানে সিইও এবং অন্যান্য আধিকারিকরা বসেন এবং মিটিং রুম রয়েছে সেখানেও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষীরা মোতায়েন থাকবেন। সিইও যদি জেলা সফরে যান সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে সিইও দপ্তরের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কলকাতা পুলিশ যেভাবে দায়িত্ব পালন করে এসেছে তা অক্ষুন্ন থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। মূলত, কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের সমন্বয়ে দপ্তরের নিরাপত্তার কাজ পরিচালিত হবে বলেও জানিয়েছেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। জানুয়ারি মাসেই নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হতে চলেছে রাজ্যের সিইও দপ্তর। নতুন ভবনেও নিরাপত্তা বলয়ের কড়াকড়ি থাকবে বলে দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে দপ্তরে ঢোকার ক্ষেত্রে বিশেষ পাসের ব্যবহার করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

কেন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত? উত্তরে রাজ্যের কোর্টেই বল ঠেলেছেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল।
যে ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনার অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তামিলনাডু, কেরালাসহ অন্যান্য রাজ্যের উদাহরণ টেনে সিইও’র বক্তব্য, ” সরকারি কর্মীরা নির্বাচনের কাজে যথেষ্ট সাহায্য করলেও ব্যবস্থাপনা তথা পরিকাঠামোর প্রশ্নে রাজ্য সরকার বেশ কিছু ক্ষেত্রে দায় এড়িয়ে গেছে। ” বিশেষ করে ‘ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ‘ না পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ‘ যদি পাওয়া যেত তাহলে বিএলও -দের কাজে অনেক সুবিধা হতো। ভুল-ভ্রান্তি অনেকটাই এড়ানো যেত। পশ্চিমবঙ্গের মতো নির্বাচনী সংবেদনশীল রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন আইনশৃংখলার দিকেও আঙুল তুলেছেন মনোজবাবু। যেভাবে লাগাতার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে অবস্থান বিক্ষোভ হয়েছে, এমনকি সিইও’র গাড়িতে চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তা মোটেই বাঞ্ছনীয় নয় বলে মনে করেন তিনি। ” অন্য কোনও রাজ্যে এ ধরনের নজির নেই ” জানিয়েছেন সিইও। ক্ষুব্ধ মনোজ বাবুর প্রশ্ন, “কোন রাজ্যে প্রাক নির্বাচনী এবং নির্বাচন পরবর্তী হিংসা হয়? সমস্ত রাজ্যের পরিস্থিতি আলাদা। এই রাজ্যের পরিস্থিতি বুঝেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন অনুভব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন নিরাপত্তা চাইনি। ‌ এটা কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়।” যদিও ” নিরাপত্তার অভাব ” বোধ না করলে কেন্দ্র কেন এমন সিদ্ধান্ত নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন সিইও। তবে রাজ্য যতই বিরোধিতা করুক নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন ও নির্বাচনী আইন মেনেই কাজ করবে সিইও দপ্তর বলে জানিয়েছেন মনোজবাবু। ” কে প্রভাবশালী আর কে প্রান্তিক মানুষ নির্বাচনী আইনে তার তারতম্য নেই। ‌ কেউ সংসদ হোন অথবা বিধায়ক, অথবা সাধারণ ভোটার, নির্বাচন কমিশনের চোখে সবাই সমান ” মন্তব্য সিইও-র।

Share with