রাজ্য-সিইও দপ্তর সংঘাতের আবহে দিল্লিতে কমিশন-তৃণমূল বৈঠক
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যে এসআইআর এবং বিএলও ইস্যুতে রাজ্য সিইও ডাক্তারের সঙ্গে যখন রাজ্যের শাসকপক্ষের সংঘাত জনমে ঠিক তখনই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের পক্ষ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন তথা সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে চিঠিতে জানানো হয়েছে আগামী ২৮ নভেম্বর সকাল ১১ টায় দিল্লির নির্বাচন সদনে তৃণমূলের সংসদীয় দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে নির্বাচন ও এস আই আর এবং বিএলও মৃত্যুর জেরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠক যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ তা বলার অপেক্ষায় রাখে না।
মূলত গত সাত দিনের মধ্যে উপর্যুপরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়া চিঠি এবং রাজ্যের সিইও দপ্তরে রাতভর বি এল ও ঐক্য মঞ্চের ধর্না অবস্থানের আবহে এই বৈঠকের গুরুত্ব বিশেষভাবে নজর কেড়েছে প্রশাসনিক থেকে রাজনৈতিক মহলেও। গত সাত দিনের মধ্যে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কে লেখা দুটি চিঠিতে মূলত এসআইআর প্রক্রিয়া এবং বিএলও দের উপর কাজের চাপ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত পরিকল্পনাহীন, অবিবেচক এবং শাস্তির খাড়া সামনে রেখে অমানুষিকভাবে বি এল ও দের উপর কমিশন নির্ধারিত গাইডলাইন মানতে বাধ্য করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে এক হাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেভাবে রাজ্যে একের পর এক বিএলও অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন তার দায় নির্বাচন কমিশনের ধারেই চাপিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী। দুটি চিঠিতেই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের হঠকারিতা নিয়ে যেমন সমালোচনা করেছেন মমতা তেমনি রাজ্য সিইও দপ্তরের ভূমিকা তীব্র বিরোধিতা করেছেন তিনি। এমনকি সরাসরি সিইও মনোজ আগরওয়ালকে উদ্দেশ্য করে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতির জেরে সোমবার রাতভর সিইও দপ্তরে ধর্না-অবস্থানে বসেছে বিএলও ঐক্যমঞ্চ ও শিক্ষক সংগঠন। যদিও বি এল ওদের কাজের চাপের কথা স্বীকার করে গোটা পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইনকেই ঢাল হিসাবে দেখিয়েছেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। যেহেতু রাজ্যের সিইও দপ্তর নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী চলে সেই হেতু কমিশনের গাইডলাইন কে মান্যতা দিয়েই বি এল ওদের কাজের পদ্ধতি এবং তাঁদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইও।
প্রসঙ্গত, বিহার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন যখন এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশনের কথা ঘোষণা করেছিলেন সেদিনই কার্যত নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি দিল্লিতে নির্বাচন সদন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। বিহান নির্বাচনের আগেই রাহুল গান্ধী তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে দিল্লিতে নির্বাচন সদন ঘেরাও অভিযান করে সর্বভারতীয় বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। এরপর 2026 সালে নির্বাচনমুখী পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে এস আই আর প্রক্রিয়া ঘোষণা হওয়ার পর দফায় দফায় রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে কমিশনের সংঘাত বাড়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে দুটি চিঠি দিয়েছেন। যেখানে অপরিকল্পিত ভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনা যেমন করেছেন তেমনি বিএলওদের উপর প্রমো বর্ধমান হারে কাজের চাপ দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। সার্বিকভাবে পরিকল্পনা তৈরি করে আপাতত এস আই আর প্রক্রিয়া, স্থগিত রাখারও দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি শাসকদলের অনুগত বি এল ও ঐক্য মঞ্চ লাগাতার সিইও দপ্তরে ধরনা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৮ নভেম্বর দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিতে চলেছে তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

