রাজ্যে আগামী মাসের প্রথমার্ধে এসআইআর চালুর সম্ভাবনা, মার্চের শুরুতে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতে পারে
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে কবে চালু হবে এসআইআর? এই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় রাজ্যবাসী। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ছাব্বিশে যে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে গোটা দেশেই এসআইআর চালু করার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে এমনটাই প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল নির্বাচন কমিশন সূত্রে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যা তাতে চলতি অক্টোবর মাসে এরাজ্যে এসআইআর চালু করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন কমিশনের পদাধিকারীরা। এমনকি নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে এক সঙ্গে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারি করা কার্যত অসম্ভব। বিহারকে বাদ দিয়ে দেশের বাকি সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একসঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করতে হলে যে বিপুল পরিকাঠামোর প্রয়োজন। তা নির্বাচন কমিশনের সাধ্যের বাইরে। সে ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কয়েকটি ভাগে দেশজুড়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিতে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে চায় কমিশন। বিহারে ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে এবং নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে। এই মুহূর্তে ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে( কেরালা, তামিলনাড়ু আসাম ও পুদুচেরি) বিধানসভার সাধারণ নির্বাচন রয়েছে সেই পাঁচ রাজ্য সহ আরও পাঁচটি রাজ্যকে যুক্ত করে প্রাথমিক পর্যায়ে দশটি রাজ্যে এসআইআর চালুর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেন নির্বাচন কমিশন বলেই সরকারি সূত্রে খবর। তাছাড়া বিভিন্ন রাজ্যে অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভিন্ন দিনে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু দিন ধার্য করা হতে পারে বলেও খবর। অবশ্যই সার্বিক পরিকাঠামো ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। উল্লেখযোগ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার চলতি মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ৪ মে। অর্থাৎ, ৪ মে-র মধ্যে সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এবং এবং নতুন রাজ্য সরকারকে শপথ গ্রহণ করতে হবে। সেই অর্থে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করতে হলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে অথবা মার্চের প্রথম দিকে এরাজ্যে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্টও প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
প্রশ্ন উঠতে পারে চলতি অক্টোবর মাসে পশ্চিমবঙ্গে কেন এসআইআর নয়? কারণ, দিওয়ালি, কালীপুজো, ভাই দুজ বা ভাইফোঁটা এবং ছট পুজো উপলক্ষে আগামী ১৮-২৮ অক্টোবর রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে ছুটির আবহ। ছুটির মধ্যে নির্বাচন কমিশন এই বিজ্ঞপ্তি জারি করবে না বলেই মনে করছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। এরপরেও নির্বাচন কমিশন যদি চায় এরাজ্যের জন্য ১৮ অক্টোবরের আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে। সেক্ষেত্রে ন্যূনতম দশ দিন সময় দিতে হবে এই প্রক্রিয়াকে কার্যকর করার জন্য। যেহেতু এখনও পর্যন্ত রাজ্যে বুথ লেভেল অফিসারদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়নি এবং তাঁদের নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়নি একইসঙ্গে ভোটার ম্যাপিংয়ের কাজও বেশ কিছুটা বাকি তাই চলতি মাসে রাজ্যে এসআইআর-এর বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন পদস্থ আধিকারিকরা
এসআইআর-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে গেলে আগে তার প্রস্তুতির সব কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। তা নাহলে কোনওভাবেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যথার্থ নয় বলে জানিয়েছেন কমিশনের পদাধিকারীরা। কারণ, বিজ্ঞপ্তি একবার প্রকাশ হয়ে গেলে তখন আর বসে থাকা নয়, যেকোনও মূল্যে এসআইআর-এর কাজ শেষ করাটাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে। যাই সব দিকে বিচার বিবেচনা করে অযথা তাড়াহুড়োর বদলে হিসেব কষেই নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলোতে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চায় নির্বাচন কমিশন।

