হেডলাইন

রাজ্যে আস্থা হারিয়ে পাঁচ মাস আগের নির্দেশ ডিইও-দের কার্যকর করতে নির্দেশ কমিশনের

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিল নির্বাচন কমিশন। অস্তিত্বহীন ভোটারদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে বারুইপুর পূর্ব ও ময়না বিধানসভা চার সরকারি আধিকারিক ও একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে সাসপেন্ড করে এফআইআর-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রাজ্য প্রশাসনকে। কিন্তু তা নিয়ে কলকাতা থেকে দিল্লি অনেক চাপানউতোর হলেও নজিবিহীনভাবে মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলব করা হলেও এফআইআর আজ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। উল্টে মুখ্যসচিব পদ থেকে সরেই গেলেন মনোজ পন্থ। অগত্যা রাজ্য প্রশাসনে আস্থা হারিয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ডিইওদের এফআইআর করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়ে তার কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট সিইওকে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট ডিইওদের এমনটাই নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। এই নির্দেশের মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন বুঝিয়ে দিল রাজ্য প্রশাসন নয় সরাসরি নির্বাচন কর্মীদের ওপরেই এবার থেকে নির্ভর করবে কমিশন।

গত ৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশন পাঁচজনের বিরুদ্ধে সাসপেন্ড করে এফআইআর করার নির্দেশ দেয়। তৎকালীন মুখ্যসচিবকে সেই নির্দেশিকা পাঠানো হয় সিইও দপ্তর থেকেও। দ্রুত নির্দেশ কার্যকর করার কথা থাকলেও সপ্তাহ গড়িয়ে গেলেও কোন উদ্যোগ নেয়নি রাজ্য সরকার। এরপর ১১ অগাস্ট মুখ্য সচিব কে চিঠি দিয়ে 13 আগস্ট বিকেল পাঁচটার মধ্যে দিল্লি নির্বাচন সদনে সমস্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট নিয়ে হাজির হতে বলে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশমতো দিল্লিতে গিয়ে হাজিরা দিলেও মুখ্য সচিব কোন নির্দিষ্ট নথি নিয়ে যাননি বরং সাত দিন সময় চেয়ে নেন কমিশনের কাছে। গত ২১ আগস্ট ৪ সরকারি কর্মীকে সাসপেন্ড করা হলেও এফআইআর করেনি রাজ্য সরকার। যদিও জানানো হয় ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড করা হয় বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও দেবত্তম দত্ত চৌধুরী এবং একই কেন্দ্রের এইআরও তথাগত মন্ডলকে। সাসপেন্ড করা হয় ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও বিপ্লব সরকার এবং ওই বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাস কে।
উল্লেখযোগ্য দেবত্তম দত্ত চৌধুরী একজন রাজ্য সিভিল সার্ভিস এক্সিকিউটিভ অফিসার যিনি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা গ্রামীণ উন্নয়ন সেলের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত। তথাগত মন্ডল জয়নগর ব্লকে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সংক্রান্ত ডিস্ট্রিক্ট অফিসার পদে কর্মরত বিপ্লব সরকার রাজ্য সিভিল সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদমর্যাদার একজন সরকারি আধিকারিক। সুদীপ্ত দাস তমলুক ব্লক পঞ্চায়েত একাউন্টস ও অডিট অফিসার হিসেবে কর্মরত। এই চার সরকারি আধিকারিক ও ক্যাজুয়াল কর্মী ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিত হালদারের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে
ভোটার তালিকায় অস্তিত্বহীন ভোটারদের সরাসরি নাম তোলার অপরাধ ফৌজদারি দন্ডবিধির আওতার মধ্যে পড়ে বলে জানিয়েছে কমিশন। এক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট আইন ভঙ্গই করা হয়নি বরং সাংবিধানিক অধিকারকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। ১৯৫০ সালের ভারতের জনপ্রতিনিরিত্ব আইনের ১৩ বি ধারা অনুযায়ী এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দন্ডবিধিতে মামলা রুজু করা হবে। কারণ ভোটার তালিকায় অস্তিত্বহীন ভোটারদের সরাসরি নাম তোলার অপরাধ ফৌজদারি দন্ডবিধির আওতার মধ্যে পড়ে বলে জানিয়েছে কমিশন। এক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট আইন ভঙ্গই করা হয়নি বরং সাংবিধানিক অধিকারকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে নানা চাপানউতোর চললেও প্রায় পাঁচ মাস পরে অবশেষে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকরী হতে চলেছে বলে জানিয়েছে সিইও দপ্তর।

Share with