রাজ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ শহুরে ভোটার ‘নিখোঁজ’! গণনাপত্র ফেরত দেবেন বিএলও-রা
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
কলকাতাসহ রাজ্যের শহরাঞ্চলের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম ইআরও দের কাছে ফেরত যেতে পারে। এমনই আশংকার কথা জানিয়েছে রাজ্যের সিইও দপ্তর। বিশেষ করে বহুতলের ভোটারদের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় উল্লিখিত ঠিকানায় একাধিকবার হদিশ না পেয়ে ফর্ম ইআরও-র কাছে ফেরত দিতে চলেছেন সংশ্লিষ্ট বিএলও-রা। সিইও দপ্তর সূত্রে এই খবর মিলেছে। কলকাতাসহ আসানসোল, খড়্গপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার শহরাঞ্চলে এই ধরণের ঘটনাই বেশি। বেশ কিছু বস্তি অঞ্চলেও একই ছবি। কিছু কিছু বস্তি বর্তমানে বহুতল অথবা বড় শপিং মলে পরিণত। ফলে বস্তির বাসিন্দাদের হদিশ পাচ্ছেন না বিএলও-রা।
এক্ষেত্রে বিএলও-রা তিন বার গিয়েও যদি ভোটারদের খূঁজে না পান তখন বিএলও অ্যাপে ‘আনকালেকটেবল বাটন’ প্রেস করবেন। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভোটারের ফর্ম কমিশনের রেকর্ডে ডিস্ট্রিবিউটেড দেখালেও বাস্তবে সেই ভোটার ফর্ম পাবেন না। এই সমস্ত ভোটারদের নাম আগামী ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকায় থাকবে না যেহেতু তারা ভোটার গণনাপত্র জমা দেননি। খসড়া তালিকার সঙ্গে যে আরও একটি তালিকা প্রকাশিত হবে সেখানে স্পষ্ট করে দেওয়া হবে কাদের নাম বাদ গেল এবং কি কারণে বাদ গেল। ৯ ডিসেম্বরের পর ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাস সময় পাওয়া যাবে যখন প্রযোজনীয় ফর্ম পুরণ করে (ফর্ম ৬) নিজেদের নাম তালিকায় ঢোকাতে বা ভোটার কার্ডে কোন পরিবর্তন করতে চাইলে তাঁরা তা করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে ৯৫ শতাংশ গণনাপত্র বিলি হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে চিত্রটা খানিকটা অন্যরকম।
তবে এক্ষেত্রে আগামী ৯ই ডিসেম্বর থেকে ৮ই জানুয়ারি পর্যন্ত যাদের নাম বাদ যাবে, নামের বানানে ভুল থাকবে, ঠিকানা পরিবর্তন করতে চায় এবং নতুন ছবি ব্যবহার করতে চায় এমন সব ভোটাররা নতুন করে আবেদন জানাতে পারবেন। তবে শহরাঞ্চলের ৩০ শতাংশেরও বেশি ভোটারের খোঁজ না পাওয়া নির্বাচন কমিশনের কাছে অবশ্যই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বস্তি এলাকার বাসিন্দা যাদের নাম ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে তাদের নিয়েও কপালে চিন্তার ভাঁজ কমিশনের।

