ট্রেন্ডিংহেডলাইন

রাজ্যে শুরু এসআইআর প্রক্রিয়ার ‘ভোটার ম্যাপিং’, ডেডলাইন ২০ সেপ্টেম্বর

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক কাজ হিসেবে রাজ্যের ভিত্তিবর্ষ বা বেস ইয়ারের ভোটার তালিকার সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান ভোটার তালিকার ভোটার ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু করা হল। দশ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে আয়োজিত সিইও কনফারেন্সের নির্যাস অনুযায়ী এই ভোটার ম্যাপিং প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিল রাজ্য সিইও দপ্তর। আগামী কুড়ি সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার কাজ শেষ করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দিব্যেন্দু দাস জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের এই মর্মে চিঠি দিয়ে দ্রুত এই ম্যাচিং প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৮ ১৯ সেপ্টেম্বর এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে আসছেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। ভোটার ম্যাপিংয়ের পাশাপাশি এসআইআর প্রস্তুতির কাজ কেমন চলছে তা দেখতে বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার কথা জ্ঞানের ভারতীর। আগামী কুড়ি সেপ্টেম্বর সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে এই ভোটার ম্যাপিং প্রক্রিয়ার কাজের তদারকি করবে নির্বাচন কমিশন।

এই ভোটার ম্যাপিং এর কাজ কি পদ্ধতিতে হবে তাও রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত ভোটার ম্যাপিংয়ের কাজের দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট বিএলও বাহ বুথ লেভেল অফিসাররা। যেহেতু ২০০২ সালকে এরাজ্যে এসআইআর-এর জন্য বেস ইয়ার ধরা হয়েছে তাই প্রথমেই বিএলও দের হাতে পয়লা জানুয়ারি ২০০২ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে পয়লা জানুয়ারি ২০২৫-এ রাজ্যে প্রকাশিত সর্বশেষ চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সঙ্গে থাকবে গত ৪ এবং ৭ জানুয়ারি প্রকাশিত অতিরিক্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও। ২০০২ এবং ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা দুটোতেই যাদের নাম রয়েছে সেই নামগুলির তালিকা তৈরি করবেন বিএলও-রা। ভোটারদের নামের সঙ্গে নির্দিষ্ট বিধানসভা ক্ষেত্রের নাম ও নম্বর, পার্টির নাম ও নম্বর এবং ক্রমিক নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে হাতে লেখা নয়া তালিকায়। ২০২৫ এর ভোটার তালিকায় থাকা কোনও ভোটারের নাম ২০০২ সালে না থাকে অথচ তাদের অভিভাবকদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় থাকে সেক্ষেত্রে অভিভাবকদের নাম, বিধান বিধানসভা ক্ষেত্রের নাম ও নম্বর, অভিভাবকদের নামের ক্রমিক নম্বর আলাদা ভাবে উল্লেখ করে তালিকা তৈরি করতে হবে বিএলও-দের। এ ব্যাপারে বিএলও-দের সঙ্গে বসে গোটা বিষয়টি নিয়ে একসঙ্গে বসে বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলাশাসক। বি এল ওদের কাজের নৃত্য তদারকের দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও, এইআরও, অথবা বিএলও সুপারভাইজার। প্রতিদিন নির্দিষ্ট ফরম্যাট অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে রিপোর্ট পাঠাতে হবে বিএলও-দের। সেই রিপোর্ট ইআরও মারফত পৌঁছবে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও-র কাছে। শুক্রবার থেকেই ডিইও-রা ডিজিটাইজড ফরম্যাটে সিইও দপ্তরের নির্দিষ্ট ফোটালে যাবতীয় রিপোর্ট আপলোড করবেন। সুষ্ঠুভাবে এই ম্যাপিং প্রক্রিয়ার কাজ যাতে রাজ্য জুড়ে সম্পন্ন হয় সেজন্য অতি দ্রুত বিএলও-দের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে বলে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের দেওয়া নির্দেশিকায় উল্লেখ করেছেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

Share with