রাজ্যের আবেদনে সম্মতি, বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিতে ১৬০ কেন্দ্রকে অনুমোদন কমিশনের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বে রাজ্যে বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্র চালুর অনুমোদন দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গের হাতি করিডোর, দুর্গম পার্বত্য এলাকা অথবা সুন্দরবনের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকা অথবা বিভিন্ন জেলার দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, বনাঞ্চল, ছড়িয়ে থাকা বসতি এবং যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্যার কথা মাথায় রেখেই শুনানিকেন্দ্র বিকেন্দ্রীকরনের আবেদন জানিয়েছিল রাজ্যের স্বরাষ্ট্র নির্বাচন দপ্তর। রাজ্যের সেই আবেদনে সায় দিয়ে শনিবার সিইও-কে নির্দেশিকা পাঠাল নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্যের ১২ টি জেলায় মোট ১৬০ টি বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্রে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত শুনানি নেওয়া যাবে। এই জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে দার্জিলিং, ঝাড়গ্রাম, কালিম্পং, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, নদিয়া, হাওড়া, পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং জলপাইগুড়ি। কমিশনের অনুমোদন অনুযায়ী, দার্জিলিং জেলায় সর্বাধিক ৩৯ এবং আলিপুরদুয়ারে ৩৮টি বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। উল্লেখযোগ্য, জেলাশাসক, মহকুমাশাসক বা বিডিও অফিসের সরকারি দপ্তর ছাড়া কোনও পঞ্চায়েত-পুরসভা অথবা রাজনৈতিক বা বেসরকারি দপ্তরে এসআইআর শুনানিকেন্দ্র তৈরি করা যাবে না। এই মর্মে নির্দেশিকা দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই নির্দেশ জেলায় জেলায় পাঠায় সিইও দপ্তর। যদিও রাজ্যের ১২ টি জেলার বিভিন্ন দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় এই নির্দেশিকা কার্যকরি করতে হলে বহু প্রান্তিক ভোটার শুনানি পর্ব থেকে বঞ্চিত হবে একথা জানিয়ে বিশদে তার রিপোর্ট সিইও দপ্তরের মাধ্যমে কমিশনে পাঠায় রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর। কারণ এই এলাকাগুলি থেকে উল্লিখিত সরকারি দপ্তরগুলি বহু যোজন দূরে। শুনানিকেন্দ্রের বিকেন্দ্রীকরণে রাজ্যের যূক্তিকেই মান্যতা দিয়ে এবার নির্দেশিকা পাঠাল নির্বাচন কমিশন।
নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্রে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শুনানি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি, কোনও রকম বহিরাগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখেই শুনানিপর্ব সম্পন্ন করার ব্যাপারে নিশ্চিত করতে হবে। ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ অথবা ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধি, ১৯৬০ এবং নির্বাচন কমিশনের জারি করা গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে কমিশনের নির্দেশিকায়।
কমিশন জানিয়েছে, শুনানির দিনক্ষণ ও কেন্দ্রগুলির অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সব পক্ষকে আগাম জানাতে হবে। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনকে এই নির্দেশাবলির বাস্তবায়ন ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা নিয়মিতভাবে নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় বসবাসকারী ভোটারদের যাতে অযথা দূরত্ব পাড়ি দিয়ে শুনানিতে আসতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত বলে কমিশন জানিয়েছে। এই মুহূর্তে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্র চালু হলে প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ ও অসঙ্গতি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মেটাতেই এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহলও।

