হেডলাইন

রাজ্যের ভোটার তালিকায় নিরপেক্ষতায় প্রশ্ন ! পাঁচ ডিভিশনে বিশেষ পর্যবেক্ষক কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকাকে স্বচ্ছ্ব ও নির্ভুল করতে আরও কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দল নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর পর্বের মধ্যেই ভোটার তালিকার স্বচ্ছ্বতা খতিয়ে দেখতে রাজ্যস্তরে একজন বিশেষ অবজার্ভার এবং জেলাস্তরে একাধিক আইএএস অফিসারকে অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করেছে। এবার রাজ্যের পাঁচটি প্রশাসনিক ডিভিশন স্তরে একজন করে স্পেশাল অবজার্ভার হিসেবে পাঁচ আইএএস পর্যাযের কেন্দ্রীয় আধিকারিককে নিযুক্ত করল কমিশন। আজই রাজ্যের স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্তকে দিল্লিতে তলপ করেছে নির্বাচন সদন। আর তারপরই নতুন করে ৫ কেন্দ্রীয় আধিকারিক কে ডিভিশনাল স্তরে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করার বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রাজিব প্রেসিডেন্সি ডিভিশনে স্পেশাল রোল অবজারভারের দয়িত্বে কুমার রবিকান্ত সিং যিনি প্রতিরক্ষা দপ্তরের যুগ্ম সচিব পদে কর্মরত। মেদিনীপুর ডিভিশনের বিশেষ অবজারভার। হয়েছেন নিরজ কুমার বানসদ যিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যুগ্ম সচিব পদে কর্মরত। কৃষ্ণা কুমার নিরালা যিনি কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত তিনি বর্ধমান ডিভিশনের স্পেশাল রোল অবজারভার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব পদে কর্মরত অলক তিওয়ারি মালদহ ডিভিশনের দায়িত্ব পেয়েছেন। না কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব পদে কর্মরত পঙ্কজ যাদব কে জলপাইগুড়ি ডিভিশনের স্পেশাল রোল অবজারভারের দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, রাজ্যের স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্তের দায়িত্ব আরও বাড়ানো হচ্ছে। সে কারণেই সোমবার দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে সুব্রত বাবুকে। প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে তালিকা যাতে ১০০ শতাংশ নির্ভুল হয় সেজন্য বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন নির্বাচন কমিশন বলে দুদিন আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। দপ্তরের অন্দরেই গুঞ্জন ছিল যে ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে একের পর এক যেভাবে অভিযোগ এবং ভুল ত্রুটি সামনে আসছে সে ব্যাপারে রাজ্যের সরকারি মেকানিজমের উপরে যথেষ্ট ভরসা রাখতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। সে কারণেই চূড়ান্ত পর্যায়ে, কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকদের এই কাজে বাড়তি দায়িত্ব দিয়ে যুক্ত করানো হতে পারে। অবশেষে সেই আশঙ্কায় সত্যি হলো। কোন যোগ্য ভোটার যেন তালিকা থেকে বাদ না যায় অথবা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সেটা সুনিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য। আর সেই কাজে কোন গাফিলতি বরদাস্ত করতে নারাজ কমিশন। ভোটার তালিকা তৈরীর কাজে নির্বাচন কর্মীদের গাফিলতির কারণে যাতে নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের ভূমিকা বা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না উঠে এবং নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না হয় সে কারণে এই প্রথমবার রাজ্যের ভোটার তালিকা তৈরীর কাজে একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় সরকারের পদাধিকারীদের ভোটার তালিকা তৈরীর কাজে পরিদর্শকের ভূমিকায় নিয়োজিত করেছে কমিশন।

Share with