হেডলাইন

রাজ্যের ২২০৮ বুথে নেই কোনও মৃত-স্থানান্তরিত ভোটার, ‘বিস্ময়কর’ তথ্য খতিয়ে দেখতে নির্দেশ কমিশনের

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

  1. রাজ্যের ২২০৮ টি বুথে সমস্ত ভোটারের নির্বাচনী গণনাপত্র লিপিবদ্ধ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইআরও-দের কাছে জমা দিয়েছেন বিএলও-রা। অর্থাৎ রাজ্যে ২২০৮ টি বুথে কোন মৃত ভোটার , ডুপ্লিকেট ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার এবং নিখোঁজ ভোটার নেই। রাজ্যের ২২ টি জেলায় মোট ২২০৮ টি বুথে প্রতিটি এনু মারেসন ফর্ম ইআরওদের কাছে জমা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিএল-ওরা। আর এই তথ্য হাতে পেয়েই চক্ষু চরক গাছ নির্বাচন কমিশনের। প্রাথমিকভাবে এই ২২০৮ টি বিএলও -র কাজ নজির স্থাপন করলেও কমিশনের কর্তাদের মনে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে, রাজ্যজুড়ে যেভাবে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির বিরোধিতা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে, রাজনৈতিক দলগুলি পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন সেই আবহে তাক লাগানো তথ্য এই ২২০৮ টি বুথে। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২২০৮ টি বুথে একটিও মৃত ভোটার নেই। কোন ভোটার এই বুথগুলি থেকে অন্যত্র স্থানান্তর হননি অথবা কোন ভোটার একটির বেশি দুটি এপিক কার্ড ব্যবহার করেননি। এমনকি এই তথ্য জানান দেয় যে এই বুথগুলিতে কোন নিখোঁজ ভোটার বা absent ভোটার নেই। যদিও এই টাক লাগানো তথ্য সন্দেহের চোখে দেখছেন নির্বাচন কমিশনের কর্তারা। স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই তথ্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হলেও সত্যিই কি রাজ্যের এই ২২০৮ টি বুথে কোনও মৃত ভোটারের অস্তিত্ব নেই? রাজ্যের সিইও দপ্তরে এই তালিকা পাঠিয়ে গোটা তথ্য ফের খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে দিলি নির্বাচন সদন। রাজ্যে সদ্য নিযুক্ত ইলেকটোরাল রোল অবজারভাররা এই তথ্য খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছে সিইও দপ্তর।

কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের ভোটের বুথের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা দক্ষিন ২৪ পরগণায়, ৭৬২। সবচেয়ে কম কলকাতা উত্তর, কালিম্পং এবং পশ্চিম বর্ধমানে, যথাক্রমে ১টি করে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পর যে জেলাগুলিতে শতাধিক বুথে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে সেগুলি হল পুরুলিয়ায় ২২৮ টি, মুর্শিদাবাদে ২২৬, মালদায় ২১৬, নদীয়ায় ১৩০ বাঁকুড়ায় ১০১। তবে সীমান্তবর্তী জেলা গুলিতে এ ধরনের তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রাজ্য সিইও দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরাই। যদিও বিএলও অ্যাপের মাধ্যমে ইআরও নেটে এই তথ্য আপলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি দিল্লির নির্বাচন সদনের নজর এড়ায়নি। প্রাথমিকভাবে সিইও দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট ডিইও বা জেলাশাসক এবং ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। শুধুমাত্র ২২০৮ টি বুথে প্রতিটি নির্বাচনী গণনা পত্র জমা পড়ার ঘটনায় নয় রাজ্যের মোট ৫৪২ টি বুথে মাত্র একটি নির্বাচনী গণনা পত্র সংগ্রহ করা যায়নি, ৪২০ টি বুথে দুটি করে গণনা পত্র সংগ্রহ করা যায়নি, তিনটি নির্বাচনী গণনা পত্র ফেরত এসেছে ৩৭২টি বুথে, চারটি করে ৩৭৪টি বুথে, পাঁচটি করে ৪৮১ টি বুথে, ছয়টি করে ৫৪৮ টি বুথে, সাতটি করে ৫৮৫টি বুথে,, ৮টি করে ৬৭৮টি বুথে, নয়টি করে ৭৭৯ বুথে এবং দশটি করে ৮৫৭ টি বুথে নির্বাচনী গণনা পত্র ফেরত এসেছে। আপাতদৃষ্টিতে, পশ্চিমবঙ্গে এস আই আর এর কাজ নিয়ে বি এল ওদের এই ভূমিকা অথবা সার্বিক প্রক্রিয়া যথেষ্ট প্রশংসাযোগ্য মনে হলেও তথ্যের মধ্যেই কোথাও গলদ লুকিয়ে আছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে যে জেলাগুলিতে এই ধরনের ‘বিস্ময়কর’ ঘটনা ঘটেছে অবস্থানে নিরিখে এবং এসআই এর প্রক্রিয়ার শুরু থেকে সেই জেলাগুলিতে কাজের যে প্রকৃতি নিয়ে বারবার বিতর্ক দানা বেড়েছে সে ক্ষেত্রে এই তথ্য কতটা নির্ভুল তা যাচাই করে দেখতে চাইলে নির্বাচন কমিশন। ফের এই তথ্য খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

Share with