রাজ্যের কর্মী তালিকায় অসঙ্গতি ও নির্বাচনী আধিকারিকদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নয়া জট এসআইআরে
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যে এসআইআর পর্বে এবার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের রিপোর্ট নিয়েও নিশ্চিত হতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের পাঠানো গ্রুপ বি কর্মীর তালিকায় কতজন এসআইআর-এ কর্মরত এইআরও রয়েছেন তা জানতে চায় সিইও দপ্তর। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ জেলা প্রশাসন রিপোর্ট পাঠিয়েছে। এর মধ্যে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন জানায়” শূন্য “। পরে যদিও কমিশনের ডেটাবেস থেকে জানা গেছে, ওই জেলাতেও বেশ কিছু এইআরও রয়েছেন যারা রাজ্যের দেওয়া গ্রুপ বি ক্যাডারের তালিকাভুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের এই রিপোর্টে বিরক্ত সিইও দপ্তর তথা কমিশন। এই আবহে শুক্রবার সকাল ১১ টায় কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন রাজ্যের সব জেলাশাসকরা। বৈঠকে থাকবেন সিইও। বৈঠকে জেলা প্রশাসনগুলির উদ্দেশে নির্বাচন কমিশন কি বার্তা দেয় তা নিয়েই চিন্তা পদস্থ কর্তাদের। তবে ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলার রিপোর্টগুলো ফের খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে বি গ্রুপ ক্যাডারের ৮,৫০৫ জন আধিকারিকের তালিকা পাঠালেও বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৬৩০০ জন জেলায় জেলায় নিযুক্ত হওয়ার জন্য জেলাশাসক দপ্তরে রিপোর্ট করেছেন।
যার মধ্যে কমবেশি ৪০০ জন এইআরও পদে ইতিমধ্যেই নিযুক্ত রয়েছেন বঙ্গের এসআইআর-এর কাজে বলে জানিয়েছে সিইও দপ্তর। ফলে তাঁদের নতুন করে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া তাঁদের এই ৮,৫০৫ জনের তালিকা থেকে বাদ হিসেবেই ধরবে সিইও দপ্তর। এদিকে প্রায় ৬৩০০ জনের মধ্যে কতজন নির্দিষ্টভাবে গ্রুপ বি ক্যাডার তাও স্পষ্ট হয়নি। কমিশন রাজ্যের কাছে যে তথ্যগুলো চেয়ে পাঠিয়েছিল তা এখনো সম্পূর্ণভাবে জমা পড়েনি বলে জানানো হয়েছে। ফলে যারা মাইক্রো অবজারভার এর বিকল্প বা পরিবর্ত হিসেবে এসআইআর-এ যুক্ত হতে গিয়েছেন তারা প্রকৃতপক্ষে গ্রুপ বি ক্যাডার কিনা তা যাচাই না করে তাদের যুক্ত করা যাবে না এমনটাই জানা গেছে সিইও দপ্তর সূত্রে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী এদের সকলের কমিশনের নিয়োগপত্র পাওয়ার কথা। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতেও কিছুটা সময় লাগবে। সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের ৮,৫০৫ গ্রুপ ডি ক্যাডারের কর্মী দেওয়া নিয়ে জটিলতা অব্যাহত। এব্যাপারে আদালতের নির্দেশ অবমাননা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কমিশনের পদস্থ কর্তাদের একাংশ। সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, কর্মীদের বি গ্রুপ ক্যাডারের বিষয়টি স্পষ্ট না হলে নিয়োগ নিয়ে যেমন সমস্যা হবে তেমনি কোন কর্মী কোন জেলায় যুক্ত হবেন তা নিয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য না পেলে তাদের জেলাভিত্তিক যুক্ত করানোর কাজেও দেরি হবে। কারণ কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী নিজস্ব জেলায় বা কর্মরত জেলায় এদের কাউকে নিয়োগ করা হবে না। ফলে রাজ্য সরকারের তালিকা অনুযায়ী গ্রুপ বি কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে টানাপোড়েন চলবে তা বলাই বাহুল্য।
অন্যদিকে, কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শনিবার রাজ্যে এসআইআরে শুনানির শেষ দিন। কিন্তু রাজ্য সরকারের কর্মী তালিকায় যেভাবে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

