রাজ্যকে ভুয়ো ভোটার মুক্ত করতে ১০০ বিধানসভা কেন্দ্র ‘ টার্গেট ‘ কমিশনের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
২৯৪-এর মধ্যে টার্গেট ১০০। হ্যাঁ, রাজ্যের ২৩ টি জেলার ১০০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভুয়ো বা অবৈধ ভোটারের বাড়বাড়ন্ত রয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশই রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলির অন্তর্গত। দার্জিলিং, কালিম্পং, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরের একাংশ ও শহর কলকাতায় অবৈধ ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও রাজ্যের বাকি অংশে বিক্ষিপ্তভাবে যথেষ্ট ভুয়ো ভোটারের অস্তিত্ব রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন এখনও ঘোষণা না হলেও রাজ্যে চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে ভোটার তালিকা সংযোজন ও বিয়োজনের কাজ করতে গিয়ে এই তথ্যই উঠে এসেছে পদস্থ কর্তাদের কাছে। মূলত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেই এ ধরনের অবৈধ ভোটারদের সংখ্যা বেশি। উত্তরের কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় যেমন সংখ্যাধিক্য রয়েছে তেমনি মালদা, উত্তর দিনাজপুরেও এদের অস্তিত্ব যথেষ্টই। গাঙ্গেয় বঙ্গে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া সহ দুই চব্বিশ পরগনায় অবৈধ ভোটারের সংখ্যাধিক্য সবচেয়ে বেশি বলে সিইও দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। পিছিয়ে নেই পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং হুগলি-হাওড়াও। মূলত, এক জেলা থেকে আরেক জেলায় স্থানান্তরের মাধ্যমে দুই জেলাতেই ভোটার তালিকায় নাম রাখার পাশাপাশি অস্তিত্বহীন ঠিকানায় ভোটার হওয়ার মতো বেশ কিছু প্রমাণ কমিশনের হাতে এসে পৌঁছেছে বলে খবর। এর পাশাপাশি মৃত ভোটার বা স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হওয়া ভোটারদের ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড থাকার মত তথ্যও নজরে এসেছে রাজ্য সিইও দপ্তরের। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই ধরনের ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন ভোটারদের সন্ধান মিলেছে যে তথ্য বিধানসভাওয়ারী ধরলে সংখ্যাটা পৌঁছয় ১০০ তে। অর্থাৎ রাজ্যের তিন ভাগের এক ভাগ বিধানসভা কেন্দ্রে এ ধরনের ভোটারদের চিহ্নিত করা গিয়েছে যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও রাজ্যে এখনো ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন বা এসআইআর শুরু হয়নি। যদি এসআইআর শুরু হয় তাহলে আরও সুচারু ভাবে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করার কাজ সহজ হবে বলে মনে করছেন সিইও দপ্তরের আধিকারিকরা।
তবে প্রযুক্তিগত কৌশলকে কাজে লাগিয়ে এই ভুয়ো ভোটারদের বিশ্বের সবথেকে বৃহৎ গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। ভুয়ো বা অবৈধ ভোটার সমস্যার সমাধানে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগোতে চায় কমিশন। ভোটের এপিক কার্ড রাজ্যভিত্তিক না ছাপিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে যেকোনো একটি জায়গা থেকে নতুন ডিজিটাল ভোটার কার্ড ছাপিয়ে গোটা দেশে তা ভোটারদের নথিভুক্ত ঠিকানায় পাঠানোর চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। যেহেতু গোটা দেশে ভোটার তালিকা থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার যাবতীয় তথ্য অনলাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে সে কারণে দেশজুড়ে যাবতীয় তথ্যের নির্দিষ্ট ডেটাবেস নির্বাচন কমিশনের কাছে রয়েছে। তদনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে ভোটার কার্ড ছাপানো থেকে তার নির্দিষ্ট ভোটারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করাতে চাই। নির্বাচন কমিশন। ফলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে ভোটার কার্ড তৈরির কাজ করানো হতে পারে। তাছাড়া ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ডের সংযুক্তিকরণ এর যে প্রস্তাব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে সেই ব্যবস্থা চালু করার কথাও ভাবনা-চিন্তা করছে কমিশন বলে জানা গেছে। অর্থাৎ একদিকে এসআইআর অন্যদিকে প্রযুক্তির কৌশল কাজে লাগিয়ে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট সাফল্য মিলেছে বলে মনে করছে কমিশন। এই পরিস্থিতিতে ছাব্বিশে পশ্চিমবঙ্গ সহ যে রাজ্যগুলোতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে সেখানে এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতাই মূল পাখির চোখ কমিশনের। তাই পশ্চিমবঙ্গের ১০০ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভুয়ো বা অবৈধ ভোটার হটাতে এসআইআর প্রক্রিয়ার আগে থেকেই তৎপর হয়েছে রাজ্য সিইও দপ্তর।

