রাজ্যকে ‘ক্রাইম ফ্রি’ করে নির্বাচন পরিচালনায় একগুচ্ছ নয়া পদক্ষেপ কমিশনের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার স্বার্থে বেশকিছু নয়া পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে প্রথম দফা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিন আগেই নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের চমকের পাশাপাশি আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে রাজ্যকে ‘ক্রাইম ফ্রি’ করার ফরমান জারি করেছে কমিশন। সেই মোতাবেক রাজ্য সিইও দপ্তর জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের মাধ্যমে সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের থানা ভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। যে নির্দেশিকা অনুযায়ী এই সময়কালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যত বেআইনি আপনি আসতো আছে তা সিঞ্চ করতে হবে এবং যাদের নামে মহান রয়েছে তাদেরকে আটক করতে হবে। থানার ওসি-কে একটি অঙ্গীকারপত্র দিতে হবে যে তাঁর থানা এলাকা সম্পূর্ণ ‘ক্রাইম ফ্রি’ জোনে পরিণত হয়েছে। এরপর যদি ওই এলাকায় কোন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে তাহলে তার দায় সম্পূর্ণ বরতাবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি’র ঘাড়ে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনী বিধি ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী তিনি অভিযুক্ত হবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে কমিশন। ইতিমধ্যেই গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে প্রাক নির্বাচনী অথবা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার সময় রাজ্যের থানাভিত্তিক অফিসারদের পোস্টিং ছিল তার তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। শুধু রাজ্যের পুলিশ নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী এমনকি পর্যবেক্ষকদের উপরেও এবার কড়া নজর থাকছে কমিশনের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা, যথাযথভাবে কাজ করছেন কিনা অথবা নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করছেন কিনা তার নজরদারি এবং অভিযোগ বাবা মাত্র তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার জন্য বিশেষ সেল তৈরি করা হচ্ছে। একইভাবে নজরদারি ব্যবস্থা থাকছে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের কাজেও। সব মিলিয়ে একগুচ্ছ নয়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে ২৬ এর নির্বাচনকে “নজিরবিহীন” করে তুলতে বদ্ধপরিকর জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। বুথের ভিতরে বা বুথ চত্বরে ওয়েব কাস্টিং এর মাধ্যমে কোন গন্ডগোল ধরা পড়লে, বুথে ভোট কর্মীদের বা ভোটারকে ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি বা ভোটদানে বাধার ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে সেই বুথে পুনঃনির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন বলেও জানানো হয়েছে।
সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ” রাজ্য প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এমনকি সিইও দপ্তর সকলেই ভোট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের কর্মী। তাই কমিশন নির্দিষ্ট বিধি অমান্য হলে তার দায় নিতে হবে সকলকেই। দায়বদ্ধতা নির্দিষ্ট করেই আসন্ন নির্বাচনকে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ করাই লক্ষ্য কমিশনের। এর অন্যটা হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।” এখনো পর্যন্ত নির্বাচনী আয় ব্যয় এর ভিত্তিতে রাজ্যের ৫৫ টি বিধানসভা কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করেছে নির্বাচন কমিশন বলেও জানিয়েছেন সিইও।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কমিশনের অন্যান্য নয়া পদক্ষেপ —
## ভোটের ঠিক পাঁচ দিন আগে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ পৌঁছে দেবে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট বিএলও-রা এই দায়িত্ব পালন করবেন।
## রাজ্যের ৮০ হাজার ৭১৯ ভোটের বুথে ভিতর ও বাইরে ওয়েব কাস্টিং
## কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং এবং বডি ক্যামেরা
## স্পর্শ কাতর বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরার ব্যবস্থা এবং ত্রিস্তরীয় নজরদারি। প্রয়োজন বুঝে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি
## পর্যবেক্ষক থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী বা নির্বাচন কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তৎক্ষণাৎ নিষ্পত্তির জন্য সিইও দপ্তরে বিশেষ কমপ্লেন সেল
## ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটার অথবা ৪০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ভোটারদের হোম ভোটিং ও সার্বিকভাবে ভোটের নজরদারির কারণে বিশেষ পর্যবেক্ষক সেল
## ভোটারদের ভোটদানে প্রভাবিত করা অথবা উৎকোচ দেওয়া থেকে ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে ফ্লায়িং স্কোয়াড অভিযোগ গ্রহণে বিশেষ সেল
## প্রতিটি বুথে ভোট কর্মীদের আগে পৌঁছবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ভোটের বুথ এবং যাবতীয় সরঞ্জাম নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে বাহিনী
## জেলা স্তরে গণনা কেন্দ্র। জরুরি প্রয়োজন বুঝে তবেই মহকুমা স্তরে হতে পারে গণনা কেন্দ্র
——–

