রাজ্যকে ‘ ক্রাইম ফ্রি ‘ করতে থানার ওসি’কে করতে হবে অঙ্গিকার, ভঙ্গ হলেই শাস্তি
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে গোটা রাজ্যকে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ করার পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। সেই কারণে গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে হিংসার ঘটনায় নজর কমিশনের। আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত থানা ভিত্তিক কত আগ্নেয়াস্ত্র সিজ হয়েছে , যাদের নামে ওয়ারান্ট আছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার সম্পূর্ণ রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে কমিশন থেকে। সেই রিপোর্টে ভোট ঘোষণার মুহূর্ত থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানা এলাকা সম্পূর্ণ ‘ক্রাইম ফ্রি’ এই মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসিকে। রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, “এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওসিকে দায়িত্ব নিতে হবে। অঙ্গীকার করার পরেও যদি ওই থানা অঞ্চলে কোন হিংসার ঘটনা ঘটে তার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। ” একইসঙ্গে সোমবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নবান্নের কাছে গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে কোন কোন থানায় কোন অফিসার দায়িত্বে ছিলেন তার সম্পূর্ণ তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় কমিশন নির্দিষ্ট ফরম্যাট অনুসারে সেই নির্দেশিকা পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে নবান্ন থেকে। সবমিলিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে কড়া পদক্ষেপের পথে নির্বাচন কমিশন। সিইও আরও জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ডিউটিতে যারা থাকবেন তারা কোনও ধরনের রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা যেমন নেবেন না, তেমনই কোন বিশেষ প্রভাব থেকেও মুক্ত থাকবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা যাতে নিরপেক্ষভাবে ভোটের ডিউটি করেন সেই কারণে এবার নতুন বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বাহিনীর নোডাল অফিসারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে কথা হয়েছে। যদি বাহিনীকে রাজ্য প্রশাসন যথাযথভাবে ব্যবহার করতে অপারগ হয় তাহলে নির্বাচন কমিশন নিজেই সেই দায়িত্ব নেবে একথাও জানিয়েছেন সিইও।
সিইও’র মতে, “কেন্দ্রীয় বাহিনী যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মতোই আচরণ করে সে ব্যাপারে সতর্ক নজরদারি চালাবে কমিশন। ” কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন দুই দফার বিধানসভা নির্বাচনে দফা প্রতি কম বেশি ২২০০-২৫০০ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাহিনী রিজার্ভে রাখা হবে। সব মিলিয়ে নির্বাচনকে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।
।

