বিশেষহেডলাইন

‘ রিসিভ কপি’ নিয়ে মমতার ভাবনাতেই সুপারিশ করবেন সিইও, বিকল্প প্রস্তাব নির্বাচনী কর্তার

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

এসআইআর শুনানিতে প্রযোজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনী কর্তারা যে নথি জমা নিয়েছেন তার প্রমাণপত্র আছে কি? ফলে শুনানিতে হাজিরা দিয়েও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে সন্দিহান বহু যোগ্য ভোটার। আর শুনানি পরবর্তীতে সাধারণ ভোটারদের অনিশ্চয়তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পরিস্থিতির বাস্তবতা বুঝে নির্বাচন কমিশনকে শুনানির সময় ভোটার যে প্রযোজনীয় নথি নির্বাচন কর্মীদের কাছে জমা দিয়েছেন তার প্রাপ্তি স্বীকার করার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা তা নিয়ে সুপারিশ করবেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। সিইও জানিয়েছেন “দেশজুড়ে একটি পদ্ধতি মেনে শুনানির কাজ চলছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কোনও রিসিভ কপি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেনি। তবে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে এটা নিয়ে কমিশনকে একটা সুপারিশ করা হবে। কমিশনের বক্তব্য জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।” সিইও জানিয়েছেন, “যে নথি ভোটার নিয়ে যাচ্ছেন তার দুটি ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। তার একটি রিসিভ কপি হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। অথবা নোটিশের একটি ফটোকপিতে ডকুমেন্ট রিসিভড করা যেতে পারে।” তবে বাংলার সিইও-র সুপারিশ গোটা দেশের পরিস্থিতি বিচার করে নির্বাচন কমিশন সবুজ সংকেত দেয় কিনা তার অপেক্ষায় থাকতে হবে।

যদিও ‘ রিসিভ কপি ‘ নিয়ে বিকল্প পদ্ধতির কথা বলেও বরাভয় দিচ্ছেন না রাজ্যে কমিশন নিযুক্ত স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত। তাঁর মতে, ” গোটা প্রক্রিয়াটাই পেপারলেস জব সিস্টেমে তৈরি করে ডেটাবেস তৈরি করার পরিকল্পনা কমিশনের। সেজন্যই শুনানি পর্ব শেষে ভোটারসহ ছবি তুলে এবং শুনানিকেন্দ্র থেকেই ভোটারের যাবতীয় ডকুমেন্ট আপলোড করা হচ্ছে। যা কমিশনের ইসিআইনেট-এ সরাসরি পাঠানো হচ্ছে।” সেক্ষেত্রে আলাদা করে
” রিসিভ কপি ” দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে কেন? প্রশ্ন তোলেন সুব্রতবাবু। কিন্তু কমিশনের এই পদ্ধতি পুরোটাই তো কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয়, ভোটারের কাছে শুনানি পর্বের সত্যতার প্রমাণ কোথায়? যদি ভবিষ্যতে আপলোডের পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে অথবা কোনও কর্মীর ভুলে চূড়ান্ত তালিকায় সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম তোলা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় তখন সেই ভোটারের হাতে শুনানিতে যথার্থ নথি জমা দেওয়ার প্রমাণ কোথায় পাবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সুব্রতবাবু জানান, ” শুনানি শেষে এইআরও যে কপিতে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানির তারিখসহ নির্দিষ্ট নথিতে সই করাচ্ছেন সই করার পর সেই নথিটির ছবি তুলে রাখতে পারেন ভোটার নিজেই।” সেক্ষেত্রে সেটি প্রামাণ্য নথি হিসেবে গণ্য হতে পারে বলেও জানিয়েছেন রাজ্যে নিযুক্ত স্পেশাল রোল অবজার্ভার।
যদিও শুনানি পর্বের অনেকটা পথ পেরোলেও আগে কেন এ ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করা হয়নি তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কমিশনের পদস্থ আধিকারিকরাই। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা জানিয়েছেন ” মানুষের দুশ্চিন্তার কথা মাথায় রেখেই বাস্তব সমস্যার উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কমিশনের মূল লক্ষ্য হল ভোটার তালিকা থেকে বাংলার যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং সেই জায়গায় বাইরের ভোটারদের নাম ঢোকানো। সেজন্য মানুষের অধিকারের জায়গাটা এক্ষেত্রে নগণ্য রয়ে গেছে। তা নিয়ে কমিশনের কোন মাথাব্যথাই নেই।”

Share with