হেডলাইন

সাসপেন্ড হওয়া এইআরও দের চাকরি থাকবে, কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

সাসপেন্ড হওয়া ৭ এইআরও চাকরিচ্যুত হবেন না। নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের ডেডলাইন মেনে বারুইপুর পূর্ব এবং ময়না বিধানসভার ২ ইআরও এবং ২ এইআরও-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হলেও সাসপেন্ড হওয়া সাত এইআরও-র বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার যে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না তা স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন ” তাঁরা কেউ চাকরিচ্যুত হবেন না তাদের যদি ডিমোশন করা হয় তাহলে তাদের প্রমোশন দেওয়া হবে। কারণ তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। চোর যদি চুরিও করে তাঁকেও সুযোগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা বেআইনি।”
তবে ময়না ও বারুইপুর পূর্ব এই দুই বিধানসভার দুজন ইআরও এবং দুজন এইআরও-র বিরুদ্ধে কমিশনের দেওয়া ডেডলাইন মেনে মঙ্গলবার এফ আই আর দায়ের করা হয়। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ” কত জনের বিরুদ্ধে কত এফ আই আর হয়। আমি দিল্লিতে হেঁটেছি আর আসামে এফআইআর হয়েছে। তাতে কিছু যায় আসে না।” অর্থাৎ মুখ্য সচিব কে দেওয়া ডেডলাইন বাঁচিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিরুদ্ধাচারণ করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার মুখ্য সচিবের ডাকা জেলাশাসকদের বৈঠকে আচমকা অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। বৈঠকে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বরাভয় ” আপনাদের কোন কিছুতে ভয় পেতে হবে না। রাজ্য সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। ভোট করার অধিকার কেউ কাড়তে পারবে না। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। এতদিন আপনারা ভালো কাজ করে এসেছেন। আগামী দিনেও ভালো কাজ করুন।” মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের বৈঠকে জানিয়ে দেন যে সাত জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে তারা জেলাশাসকদের অফিসে রিপোর্ট করবে। তারা নির্বাচনের কাজ করবে না, কিন্তু সরকারের কাজ করবে। জেলাশাসকদের বৈঠক শেষ করেই নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে সাসপেন্ড হওয়া এইআরও-দের পাশেই আছেন তিনি। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের সিদ্ধান্তকে ” তুঘলকি সিদ্ধান্ত ” বলে উল্লেখ করে পরোক্ষে রাজ্য-কমিশন সংঘাত আরও জোরদার করার সঙ্কল্প নিলেন।
এদিকে ডিস্ট্রিক্ট ইলেক্টোরাল রোল অবজারভারদের রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনজন মাইক্রো অবজারভারকেও সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। কর্তব্যে গাফিলতির জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। উল্লেখযোগ্য, এদিন মাইক্রো অবজারভারদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে মাইক্রো অবজারভাররা ই আর ও দেব সহায়ক হিসেবে কাজের পরিবর্তে ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অবমাননা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ মমতার। এই প্রেক্ষিতে তিনজন মাইক্রো অবজারভারকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Share with