হেডলাইন

শাস্তির সতর্কতা নিয়েই শুনানিতে ভোটার-মাইক্রো অবজার্ভার, বিএলএ ‘ নো এন্ট্রি ‘

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

শনিবার থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে এসআইআর পর্বের হিয়ারিং বা শুনানি পর্ব। প্রথম পর্বে প্রায় ৩২ লক্ষ ‘অনম্যাপড ভোটার’-এর শুনানি হবে। পরবর্তী ধাপে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারদের শুনানি হবে যাদের এনুমারেশন ফর্মে তথ্যগত ভুল অথবা মিসম্যাচ রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।
তবে এই শুনানিতে যে ভোটাররা ডাক পেয়েছেন তাঁদের জন্য সতর্কবাণী শুনিয়েছে সিইও দপ্তর। শুনানিতে ভোটার জেনে বুঝে যে তথ্যপ্রমাণ জমা দেবেন বা দেখাবেন তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম বিবেচিত হবে। যদি শুনানি পরবর্তীতে ওই তথ্য ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয় তখন নির্দিষ্ট ভোটারকে অভিযুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও অজুহাত শোনা হবে না। সেক্ষেত্রে ওই ভোটারের ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১ এর ৩১ নম্বর ধারা অনুসারে এক বছরের কারাবাস হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে প্রতারণা বা ভুল তথ্য দেওয়া এবং সাংবিধানিক সংস্থাকে অমর্যাদা করা ও ভুলপথে পরিচালিত করার মত ধারাও। পাশাপাশি শুনানি পর্বে নিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভারদের মধ্যে যারা প্রশিক্ষণে অংশ নেননি তাদের শো-কজ করার পাশাপাশি তাঁদের উদ্দেশ্যেও কড়া মনোভাব জানিয়েছেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। ” শো-কজের যথাযথ উত্তর না দিলে এবং মাইক্রো অবজারভার হিসেবে কাজে যোগদান না করলে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করা হবে” জানিয়েছেন সিইও।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ ডিসেম্বর রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এবার পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে রাজ্যজুড়ে শুনানি প্রক্রিয়া শুরু। নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী শুনানি টেবিলে কোন রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা বিএলএ হাজির থাকতে পারবেন না। প্রতিটি শুনানি টেবিলে শুধুমাত্র ই আর ও , এ ই আর ও, মাইক্রো অবজারভার, বিএলও , বিএলও সুপারভাইজার এবং যে ভোটারের শুনানি হবে তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন। কমিশন নথিভুক্ত ১৩ টি নথির যেকোনো একটি ভোটারকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। তবে শুধু আধার কার্ড বিচার্য নয়, সঙ্গে যেকোনো একটি বিধিবদ্ধ নথি নিয়ে যেতে হবে। মূলত, পাসপোর্ট, জমির দলিল, জমির পড়চা, বৈধ জাতি গত শংসাপত্র, পেনশন সার্টিফিকেট ইত্যাদি নথি সঙ্গে নিয়ে শুনানি পর্বে হাজির হতে হবে ভোটারকে।

শুনানি এক নজরে
••••••••

• প্রতি বিধানসভায় ১১ টি করে শুনানি টেবিল

• ১১ টি টেবিল একটি অথবা একাধিক জায়গায় হতে পারে

• একটি শুনানি টেবিলে ৬ জন থাকবেন। শুধুমাত্র ই আর ও , এ ই আর ও, মাইক্রো অবজারভার, বিএলও , বিএলও সুপারভাইজার এবং যে ভোটারের শুনানি হবে তিনি

• রাজ্যে মোট ২২৩৪ টি টেবিলে শুনানি হবে

• শুধুমাত্র এসডিও , বিডিও ও যে কোন সরকারি অফিসে শুনানি হবে। কোনো বেসরকারি বা রাজনৈতিক জায়গায় শুনানি হবে না

• সকাল সাড়ে ১০ টা-১১ টা থেকে শুনানি শুরু হবে

* শুনানির প্রথম দিনে গরহাজির থাকলে আরও একটি দিন শুনানিতে হাজিরার সুযোগ মিলবে।

* দ্বিতীয় দিন হাজির না হলে ওই ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে

* অসুস্থ ভোটারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবস্থা করা হবে

* ৮৫ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিযে শুনানি করা হবে

শুনানি সম্পূর্ণ হলেই ইআরও নেটে শুনানির নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য আপলোড করা হবে। এজন্য শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই ইআরও-দের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে সিইও দপ্তর।

Share with