বিনোদন ও সংস্কৃতিহেডলাইন

শেষের রেশ রেখেই আজ কলকাতায় “দুর্গাপুজো কার্নিভাল”

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

“শেষ হয়ে হইল না শেষ”

শাস্ত্রীয় বা প্রচলিত মতে দুর্গাপুজো বা শারদোৎসব সাঙ্গ হয়ে গেছে। কিন্তু সবকিছুই তো শেষ বললেই শেষ হয়ে যায় না, তার রেশ রয়ে যায়। কলকাতার দুর্গাপুজো নিছকই উৎসব বা মাঙ্গলিক পুজো অনুষ্ঠান নয়। উৎসবের ধর্মীয় মাহাত্মের পাশাপাশি কলকাতার দুর্গাপুজো হলো প্রাণের উৎসব, হাজার হাজার কোটির কর্পোরেট কালচার। সৃষ্টির নান্দনিকতা শিল্পের উৎকর্ষ এবং ধর্মীয় উন্মাদনা বা মাহাত্ম্য মিলি মিশে একাকার হয় এই প্রাণের পুজোয়। যে পুজো কয়েক লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম। তাই ইউনেস্কোর বিচারে কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে বিশ্বের দরবারে স্বীকৃতি পেয়েছে কলকাতার তথা বাংলার দুর্গোৎসব। ফিবছর বাংলার এই কালচারাল হেরিটেজকে বিসর্জনের আগে মানুষের দরবারে তথা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে এবং বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির জয়গান গোটা বিশ্বের কাছে প্রতিষ্ঠিত করতে রবিবার বিকেলে রেড রোডে হতে চলেছে ২০২৫ সালের ‘ দুর্গাপুজো কার্নিভাল ‘। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে শুরু হবে ‘দুর্গাপুজো কার্নিভাল’।

কি থাকছে এবারের কার্নিভালে? কলকাতা ও সন্নিহিত এলাকার ৯৫ থেকে ১০০টি পুজো কমিটি এবারের কার্নিভালে অংশ নিচ্ছে। কার্নিভালের মূল মঞ্চের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনের জন্য
প্রত্যেকটি পুজো কমিটিকে দু মিনিট করে সময় দেওয়া হবে। কার্নিভালের মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হবে প্রখ্যাত ওড়িশি নৃত্যশিল্পী তথা সৌরভজায়া ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এবারের কার্নিভালে ২০ হাজার দর্শকদের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রেড রোডে দুদিক জুড়ে কার্নিভাল দেখার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত থেকে শুরু করে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের। কার্নিভাল মঞ্চে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিসহ বিশেষ অতিথি অভ্যাগতদের সম্বর্ধনা জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী।

সকাল থেকেই এই কার্নিভালকে কেন্দ্র করে শহর কলকাতায় সাজ সাজ রব। ভোর রাত থেকেই বিভিন্ন পুজো কমিটির প্রতিমা এবং ট্যাবলো ময়দান এলাকায় আসতে শুরু করেছে। একে অপরকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ট্যাবল্য প্রদর্শনীতে টেক্কা দিতে এবং বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মর্যাদা সুচারুভাবে তুলে ধরতে চলছে মহড়া। শনিবার সন্ধ্যের পর থেকেই রেড রোড যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত রয়েছে রেড রোড সংলগ্ন অন্যান্য রাস্তা গুলিতেও। কার্নিভাল মঞ্চের সামনে পুজো কমিটি গুলি নিজেদের সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা শেষ করে সরাসরি চলে যাবে গঙ্গার ঘাটে। সেখানেই দুর্গা প্রতিমার বিসর্জন সাঙ্গ হবে। তদনুযায়ী বাবুঘাট সংলগ্ন বাজা কদমতলা ঘাট ও অন্যান্য ঘাট গুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিসর্জন পর্ব সুষ্ঠুভাবে ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে সতর্ক কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ এবং রিভার ট্রাফিক পুলিশ। বিসর্জন পর্ব শেষ হলেই সাঙ্গ হবে চলতি বছরের কলকাতার প্রাণের পুজো দুর্গোৎসব বা শারদোৎসব।

Share with