শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তির পদক্ষেপ করতে স্কুলশিক্ষা সচিবকে চিঠি সিইও-র
- বিএলও দায়িত্ব পালনে নারাজ শিক্ষকদের শাস্তির পদক্ষেপ করতে স্কুলশিক্ষা সচিবকে চিঠি সিইও-র
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বিএলও-র দায়িত্ব পালনে নারাজ স্কুল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করে বৃহস্পতিবার রাজ্যের স্কুলশিক্ষা সচিবকে চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ করার রিপোর্ট আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যের স্কুল শিক্ষাসচিব কে পাঠাতে বলেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
রাজ্যে প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মধ্যশিক্ষা মিলিয়ে প্রায় দশ হাজার শিক্ষক রয়েছেন যাদের নির্বাচন কমিশনের অনুমতিক্রমে বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট বিধানসভার ইআরও অথবা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও। যদিও শিক্ষকতার পাশাপাশি বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাজি নন সিংহভাগ শিক্ষক। রাজ্যে কয়েক মাস বাদেই বিধানসভা নির্বাচন। তার উপর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় যাচাই করন হওয়ার কথা। যে কাজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের যাচাই-করণের কাজ করবেন বিএলও-রা। রাজ্যে বর্তমানে ৮০ হাজার ৬৮১ টি বুথ রয়েছে। বুধ বিন্যাসের জেরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে আরও প্রায় ১৪ হাজার বুথ। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে রাজ্য সরকারের গ্রুপ সি পদমর্যাদার কর্মীরা বিএলও হিসেবে নিযুক্ত হবেন। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মী না মেলায় নির্বাচন কমিশনের অনুমতিক্রমে স্কুল শিক্ষকদের এই কাজে যুক্ত করেছে প্রশাসন। যদিও প্রথম থেকেই কোন শিক্ষকরা এই কাজ করতে আপত্তি জানিয়েছেন। কখনো শিক্ষকতার কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর কারণ দেখিয়ে আবার কখনো নিরাপত্তার দোহাই দেখিয়ে তারা বি এল হিসেবে কাজের দায়িত্ব এড়াতে চান। এই মর্মে হাইকোর্টে মামলাও করেন শিক্ষকরা। যদিও শিক্ষকদের আপত্তি খারিজ হয়ে যায় আদালতে। তবুও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে নারাজ শিক্ষকরা। এমনকি শিক্ষকদের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সিইও দপ্তর সো গজ করলেও তার উত্তর দেননি তাঁরা বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মুখ্য নির্বাচনী অধিকারিক। সেক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ অমান্য করার পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। যেহেতু বিহারের পর দেশজুড়ে এসআইআর একটি অসম্ভাবী প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সে ক্ষেত্রে অবিলম্বে এস আই আর প্রস্তুতির কাজ শুরু করতে চায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। কিন্তু শিক্ষকরা এই দায়িত্ব পালনে নারাজ হওয়ায় এই এই প্রস্তুতির কাজে বিশেষ বাধা তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অমান্য এবং হাইকোর্টের নির্দেশ না মানার কারণে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক পদক্ষেপ করার জন্য রাজ্য স্কুলশিক্ষা সচিব বিনোদ কুমারকে বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। এই প্রশাসনিক চাপের কাছে শিক্ষক সমাজ বি এল হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাজি হন কিনা সেটাই এখন অপেক্ষার।

