সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে বঙ্গের এসআইআরে কতটা বিচারের বাণী শোনাবেন বিচারকরা ?? রয়েছে প্রশ্ন
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বঙ্গের এসআইআরে বিচারব্যবস্থা যুক্ত হলেও বিচারের বাণী কতটা নিশ্চিত করতে পারবেন বিচারকরা ?! পরিস্থিতির বিচার-বিশ্লেষণ করে এমন আশঙ্কার কথাই শুনিয়েছেন কমিশনের পদস্থ আধিকারিকরা।
মূলত, নামে বিচারক হলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এসআইআর নথি যাচাইয়ের কাজে নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগের কোনও সুযোগ নেই তাঁদের। কারণ, কমিশন নির্দেশিত নথির ভিত্তিতে যাচাইয়ের কাজ করতে হবে বিচারকদের। যদি কোনও ক্ষেত্রে একটি নথির পরিবর্তে বিকল্প নথি দিয়ে যাচাই করার সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে নিজস্ব যুক্তিবুদ্ধির বিচারের জায়গা যথেষ্ট সীমিত। নির্দিষ্ট পদ্ধতি, প্রযুক্তি এবং আপলোড হওয়া নথির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাচাইকারী বিচারকদের।
প্রাথমিকভাবে লগ ইন সমস্যা, পোর্টাল সমস্যা এবং তালিকার জটিলতা নিয়ে এই যাচাই-করণের কাজে বেশ কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তার পাশাপাশি বিচারকদের স্বল্পতা এই বিরাট কর্মযজ্ঞকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায়। যদিও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির আবেদনে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের জরুরি ভিত্তিতে হস্ত্ক্ষেপে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রতিবেশী ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারক বা সমতুল আধিকারিকদের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। একইসঙ্গে ১৪ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা বেঁধে দিয়ে একবারে নয় ধাপে ধাপে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
তবে ভিনরাজ্যের বিচারকদের কাজে লাগিয়েও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোটারদের নথির বৈধতা যাচাই করতে গিয়ে কতটা সুবিচার দেওয়া যাবে প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। ভাষা সমস্যা কাটিয়ে নতুনভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের উপযোগী করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময়ের অভাব একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে, কমিশনের পক্ষ থেকে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের অসঙ্গতির যে তালিকা দেওয়া হয়েছে তার সিংহভাগ মূলত মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভারদের ‘ নিড টু রিভিউ ‘ বলে মার্ক করা এবং তথ্যগত অসঙ্গতি বলে উল্লিখিত। যদিও ইআরও এবং এইআরও-দের মাধ্যমে এই নথিগুলির প্রায় সবটাই নিষ্পত্তি হলেও তা অবজার্ভারদের সন্দেহমুক্ত করতে পারেনি। ফলে ঠিক যে কারণে রাজ্যের পরিস্থিতির সঙ্গে বেমানান ভিনরাজ্যের মাইক্রো অবজার্ভারদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল তেমনি ভিনরাজ্যের বিচারকদের নিয়ে সেই সংশয় কতটা কাটবে তা নিয়েও চিন্তা রয়েছে পদস্থ আধিকারিকদের। তাছাড়া বিধানসভা ভিত্তিক একজন করে বিচারক নিযুক্ত হলে প্রায় ৬০ লক্ষ নথি যাচাইয়ের জন্য এক একজনকে দৈনিক নিদেনপক্ষে গড়ে ১ হাজার নথি যাচাই করতে হবে। এই কাজ আচমকা একজন বিচারকের পক্ষে কতটা সম্ভব প্রশ্ন রয়েছে তা নিয়েও। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দুই-তিনদিনে কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগোয়নি। তালিকাও সম্পূর্ণরূপে সার্ভারে দেওয়া যায়নি। ধাপে ধাপে যেমন আসছে সেভাবেই নথি যাচাইয়ের কাজ এগোবে। এই পরিস্থিতিতে বিচারকরা যোগ্য ভোটারদের সাংবিধানিক আধিকার পাইয়ে দিতে কতটা সুবিচার দিতে পারবেন তা প্রশ্নবোধক রয়েই যাচ্ছে।

