সিইও দপ্তরের নিরাপত্তায় কলকাতার সিপি-কে নির্দেশ কমিশনের, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট তলব
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যের সিইও দপ্তরে রাতভর বিএলও সহ শাসকদলীয় শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের ধর্না-বিক্ষোভ নিয়ে এবার পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে সিইওসহ দপ্তরের সমস্ত পদাধিকারী ও কর্মীদের নিরাপত্তা অটুট রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। এই মর্মে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনে আধিকারিকদের বাসস্থানেও নিরাপত্তা বাড়াতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশিকায়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাতে হবে লালবাজারকে বলে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়া ও বিএলও-দের উপর কাজের চাপ নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে রাজ্যের শাসকদল। এনিয়ে কড়া ভাষায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুটি চিঠিতেই রাজ্যের সিইও-র বিরুদ্ধে অভিযোগের সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারই রেশ ধরে গত সোমবার থেকে সিইও দপ্তরের দোরগোড়ায় কতিপয় বিএলও-কে সঙ্গে নিয়ে রাতভর ধর্না-বিক্ষোভ চালান শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্ব। সিইও দপ্তরে বসেই সিইও সহ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শ্লোগান-হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় জে দপ্তরের সদর গেট প্রায় দুদিন বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হন। একাধিকবার অতিরিক্ত সিইও দিব্যেন্দু দাস বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বললেও যতক্ষণ পর্যন্ত সিইও নিজে তাদের সঙ্গে দেখা না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তারা দরজা ছেড়ে উঠবেন না বলে জানান বিক্ষোভকারীরা। রাতভর বিক্ষোভ অবস্থান চালিয়ে মঙ্গলবারও তা অব্যাহত রাখেন তাঁরা। এমনকি পুলিশ কর্মীদের কোন কথাই শোনেননি বিক্ষোভকারীরা। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল বিক্ষোভকারীদের চার প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করলে পুলিশের অনুরোধে সিইও দপ্তরের দোরগোড়া থেকে বিক্ষোভ-অবস্থান উঠে যায়। যদিও মূল ভবনের মেন গেটের বাইরে স্লোগান বিক্ষোভ চলতে থাকে। বুধবার সকালেও তা অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সিইও দপ্তরের আধিকারিক থেকে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত কমিশন। এসআইআর পর্বের মাঝপথেই সিইও দপ্তরে এই অরাজক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন। নিরাপত্তা নিয়ে কোনও অজুহাত শুনতে নারাজ। যেভাবেই হোক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে কার্যকরী রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়।

