হেডলাইন

সিইও সাক্ষাতে অভিষেকের ” না “, এসআইআর মৃত্যুতে ডিইও রিপোর্টে নির্বাক ভূমিকায় প্রশ্নের মুখে “রাজনীতি” !!

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

কথা দিয়েছিলেন তিনি আসবেন। সেই অনুযায়ী দলের পক্ষ থেকে রাজ্যের সিইও ডক্টর কে জানানো হয়েছিল ২৭ জানুয়ারি ১০ জনের প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সেকেন্ড ইন কমান্ড আভিষেক বন্দোপাধ্যায়। যদিও কোন কারণ না ধরিয়ে আচমকায় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অনিবার্য কারণবশত অভিষেক সিইও দপ্তরের নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল সিইও-র সুবিধা অনুযায়ী একটি সাক্ষাতের একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করতে। সেই মোতাবেক বিকেল চারটে থেকে সাড়ে চারটের মধ্যে সাক্ষাৎকারের পর্ব নির্ধারিত করে রেখেছিল সিইও দপ্তর। যদিও আচমকা এই সাক্ষাৎকার পর্ব তৃণমূলের পক্ষ থেকেই বাতিল করা হয়েছে বলে সিইও দফতর ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে। কেন এই কর্মসূচি বাতিল করা হলো তা নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কোন কারণ দর্শানো হয়নি বলেও জানিয়েছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল নিজেই। দিল্লির নির্বাচন সদনে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একগুচ্ছ দাবি দাওয়া নিয়ে গেনিশ কুমারের সঙ্গে তুমুল তর্ক বিতর্ক হয় অভিষেক ও তাঁর প্রতিনিধিদের। এরপর লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি এবং আনম্যাপড ভোটারদের শুনানির বিষয়কে কেন্দ্র করে জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। দেশের শীর্ষ আদালত রাজ্যের শাসকদলের অধিকাংশ দাবি-দাওয়া কে মান্যতা দিয়ে একাধিক নির্দেশও দেন। শুনানিতে অংশ নেওয়া রাজ্যের ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত সময়ের ডেডলাইন ও বেঁধে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তার ঠিক পরেই ১০ জন প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে অভিষেকের রাজ্যের সিইও-র সাক্ষাৎপ্রার্থী হতে চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি হয়। শুধু রাজনৈতিক মহল নয় প্রশাসনিক এবং সিইও দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকদের মধ্যেও এই বৈঠকের তাৎপর্য নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু আচমকা আবেদনের কয়েকদিনের মধ্যেই নির্দিষ্ট কোন কারণ না দেখিয়ে এই কর্মসূচি বাতিল করা হয় শাসকদলের পক্ষ থেকে। স্বাভাবিকভাবেই কর্মসূচি কেন বাতিল হল তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপন উপলক্ষে সংবাদ মাধ্যম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সিইও। রাজ্যের শাসকদল সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এসআইআর পর্বে বিএলও এবং সাধারণ ভোটারদের মৃত্যু নিয়ে প্রসঙ্গ তোলা হয়। এস আই আর আতঙ্কে রাজ্যে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই দাবি করেছে রাজ্যের শাসকদল। একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের জাতীয় ভোটার দিবস পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তেমনি সিইও-র আছি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা এসআইআর পর্বে মৃত্যুর দ্বারাই কার তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তোলেন। কেন জাতীয় ভোটার দিবসে সেই সমস্ত মৃত ভোটারদের উদ্দেশ্যে নীরবতা পালন করা হলো না তা নিয়েও নির্দিষ্টভাবে প্রশ্ন তোলা হয় শাসকদলের পক্ষ থেকে। সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, গত ২৭ অক্টোবর থেকে রাজ্যে শুরু হওয়া এসআইআর পর্বে বিএলও অথবা সাধারণ ভোটারদের মৃত্যুর কারণ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও অথবা জেলাশাসকদের পক্ষ থেকে কোন রিপোর্ট সিইও দফতরে বা কমিশনের কাছে পাঠানো হয়নি। একাধিকবার এপ্রসঙ্গে জেলাশাসকদের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে সিইও দপ্তর। যদিও একটিও ঘটনার ক্ষেত্রে কোন রিপোর্ট পাঠাননি জেলাশাসকরা। রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা জেলাশাসকরাই যদি এ সম্পর্কে কোন রিপোর্ট কমিশন বা সিইও দপ্তরের কাছে না পাঠান তাহলে এই মৃত্যুর জন্য কমিশন যে দায়বদ্ধ তার যৌক্তিকতা কি ? পাল্টা প্রশ্ন তোলেন সিইও। এই প্রশ্নের উত্তরে ‘ নির্বাক ‘ থাকেন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

স্বাভাবিকভাবেই একদিকে এসআইআর পর্বে বিএলও তথা ভোটার মৃত্যু নিয়ে সিইও-র প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া অন্যদিকে সাত দিন আগে কর্মসূচি স্থির করেও আচমকা কোন কারণ না দেখিয়ে তা বাতিল করা নিয়ে রাজনৈতিক কুশীলগদের এই “লুকোচুরি” কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমানষে। তবে কি সাধারণ মানুষের দুর্দশাকে সামনে রেখে এসআইআর নিয়ে রাজ্যে প্রশাসন ও রাজনৈতিক স্তরে বিরোধিতার কর্মসূচি নিছকই ” অন্তঃসারশূন্য ” ? নাকি শুধুই ” রাজনীতির জন্য রাজনীতি ” এই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

Share with