হেডলাইন

সমবায় ব্যাঙ্ক ও সমিতিতে বাড়তি নজর, ছাব্বিশে আরও তিনটি এজেন্সিকে যুক্ত করল নির্বাচন কমিশন

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

স্বচ্ছ্ব নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনী মেশিনারি বা এজেন্সি হিসেবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে সমবায় দপ্তরসহ তিনটি নয়া সংস্থাকে যুক্ত করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সমবায় দপ্তর ছাড়াও যুক্ত হয়েছে আরপিএফ বা রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্স এবং স্টেট লেভেল ব্যঙ্কিং কর্পোরেশন।

মূলত, নির্বাচনের আগে বা নির্বাচন চলাকালীন সাধারণ ব্যাঙ্কগুলির পাশাপাশি সমবায় ব্যাঙ্ক এমনকি সমবায় সমিতিতেও আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বা আয় বহির্ভূত টাকা জমা রাখা হয়। যা কালো টাকা হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনে প্রভাব খাটানো বা নির্দিষ্ট নির্বাচনী খরচের অতিরিক্ত খরচ করে নির্বাচনকে নিজেদের অনুকুলে রাখতে এই টাকা বা সম্পত্তির ব্যবহার করা হয়। সে কারণে সমবায় ব্যাংক বা সমবায়ক সমিতিতে নির্বাচনের আগে বাঁচা নির্বাচন চলাকালীন এ ধরনের কোন বেআইনি টাকা যাতে গচ্ছিত না থাকে বা যদি থাকে সে ব্যাপারে সমবায় ব্যাংক বা সমিতি গুলিতে সতর্ক করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের গাইড লাইন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা সমবায় দপ্তরকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সমবায় ব্যাংক নয় রেলপথে বিভিন্ন বেআইনি কাজ এবং ভিনরাজ্য অথবা ভিনদেশ থেকে নির্বাচনের আগে বা নির্বাচন চলাকালীন অস্ত্র পাচারের মতো ঘটনা রুখতেও আরপিএফ-কেও নির্বাচনী মেশিনারি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে ট্রেপ লেভেল ব্যাংকিং কর্পোরেশন নির্বাচনী এজেন্সির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে মোট ২২ টি এ ধরনের এজেন্সি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। নির্বাচনে নতুন তিনটি সংস্থাকে এই তালিকায় যুক্ত করে মোট ২৫ টি এজেন্সি কে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ১১ ডিসেম্বর এ ২৫ টি এজেন্সিকে নিয়ে বৈঠাতে বসবে কমিশন। ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠকে রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল ছাড়াও কমিশনের কর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে আগের ২২ টি সংস্থার নোডাল অফিসাররা ছাড়াও রাজ্য সমবায় দপ্তরের প্রধান সচিব, স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশনের কনভেনর এবং আরপিএফ কর্তৃপক্ষকে ডাকা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য, প্রথা অনুযায়ী নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস অগে থেকেই এই এজেন্সিগুলিকে সতর্ক ও সজাগ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তদনুযায়ী গত ১৫ অক্টোবর ২২ টি এজেন্সিকে নিয়ে প্রাথমিক বৈঠক করে কমিশন। সেখানেই এজেন্সিগুলির কর্তব্য ও কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রাজ্য পুলিশ থেকে ইডি, বিএসএফ সহ প্রতিটি এজেন্সির নোডাল অফিসারদের নাম স্থির করা হয়। আগামী ১১ ডিসেম্বর যে বৈঠক ডাকা হয়েছে সেখানে এই এজেন্সিগুলির কাজের ও পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করার পাশাপাশি এজেন্সিগুলির পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে চর্চা হবে বলেও জানা গেছে।

Share with