Uncategorized

সর্বদলে ডিএম-দের রিপোর্ট নিয়ে অসন্তোষ, ডিএম-দের শো-কজ করা নিয়ে বিজেপির দাবি নস্যাৎ করলেন সিইও

 

নির্বাচন কমিশনকে কখনও ” বিজেপির এজেন্ট ” কখনও বা ” বিজেপির ললিপপ ” বলে কটাক্ষ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার রাজ্যে ভোটের বর্ধিত বুথ বিন্যাসের সর্বদলে সেই বিজেপির দাবি নস্যাৎ করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। রাজ্যে বর্ধিত বুথ বিন্যাস নিয়ে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসকদের রিপোর্ট নিয়ে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ক্ষোভ জানায় রাজনৈতিক দলগুলি। রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ডিইওদের শোকজ করার দাবি জানানো হয় সিইও-র কাছে। যদিও সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন
” প্রতিটি ডিইও কোন রাজনৈতিক দলের কাছে দায়বদ্ধ নয়। সকলেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নিয়ন্ত্রণে থেকে এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন। ফলে কাকে শোকজ করা হবে বা করা হবে না তা সম্পূর্ণ সিইও-র আওতায় পড়ে। কোনও রাজনৈতিক দলের এ নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই।” একই সঙ্গে মনোজবাবু আরও জানান, ” মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়ে কোন কাজ হবে না। যার যা অভিযোগ আছে তার লিখিত আকারে জানাতে হবে। তারপর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, রাজ্যে বর্তমানে ৮০ হাজার ৬৮১ ভোটের বুথ রয়েছে। প্রতি বুথে সর্বাধিক এক হাজার দুশো ভোটার ভোট দিতে পারবেন, নির্বাচন কমিশনের এই নয়া নিয়মে রাজ্যে বুথের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে জেলায় জেলায় জেলায় নির্বাচনী আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বর্ধিত বুথ বিন্যাসের রিপোর্ট তৈরি করে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর কাছে পাঠিয়েছেন। তদ অনুযায়ী রাজ্যে ১৩,৮১৭টি ভোটের বুথ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের পক্ষ থেকে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে সমস্ত রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মতৈক্যের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের রিপোর্ট রাজনৈতিক দল গুলির কাছে আগেই পাঠিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দপ্তর। শুক্রবারের সর্বদল বৈঠকে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের রিপোর্টে উল্লিখিত এই ঐক্যমত নিয়ে সোচ্চার হয় রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলো। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি থেকে কংগ্রেস এবং বামপন্থীরা সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন। একটি বহু দলীয় গণতন্ত্রে ঐক্যমতে পৌঁছানো এত সহজ নয় বলে দাবি করেন সিপিআইএম নেতা শমীক লাহিড়ী। বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট ডিইও-দের শোকজ করা হোক বলে দাবি তোলেন। যদিও সর্বদল বৈঠকে উপস্থিত রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, পুলক রায় এবং তৃণমূল সাংসদ পার্থভূমিক সরাসরি বিইওদের রিপোর্ট নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি। বরং অরূপ বিশ্বাস সিইও দপ্তরের সিদ্ধান্ত কি হবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তা নিয়ে সিইও দফতরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা কেন করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যদিও বিজেপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দাবি কে আমল দিতে নারাজ রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন ” নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা রিপোর্ট তৈরি করেছেন। সেই রিপোর্ট নিয়ে অসন্তোষ থাকলে এবং সে ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ফের কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী গোটা বিষয়টি ফের খতিয়ে দেখতে বলা হবে। প্রয়োজনে সিইও ডক্টর থেকেও ঝরে জমিনে খতিয়ে দেখা হতে পারে।” এদিনের সর্বদল বৈঠকে সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বর্ধিত বুথের বিন্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটার মধ্যে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত পেলে এবং নতুনভাবে জেলা স্তরের রিপোর্ট তৈরি করে সব পক্ষের রিপোর্টের সমন্বয় রাজ্য সিইও দপ্তর চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবে এবং তা পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনে।

Share with