হেডলাইন

স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে গিয়ে  শুনানির কাজে বিভ্রান্তি বাড়ালো কমিশন

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

পঞ্চায়েত প্রধান থেকে বিডিও যেকোনো কেউ স্থানীয় বাসিন্দার শংসাপত্র দিতে পারবেন না। এস আই আর শুনানিতে শুধুমাত্র জেলাশাসক অতিরিক্ত জেলাশাসক মহকুমাশাসক এবং কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টর যদি এই শংসাপত্র দেন তবেই তা নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পক্ষ থেকে এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে শনিবার এই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নির্দেশিকার মাধ্যমে তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জানালো নির্বাচন কমিশন। যদিও শুনানি পর্বের নির্ধারিত শেষ দিনে সুনামি সংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকা জারি করা অথবা বিভ্রান্তি দূর করা নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কমিশনের অন্দরেই।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এসআইআর নির্দেশিকা অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বৈধ যোগ্যতা প্রমাণকারী নথি। ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এ জারি হওয়া এসআইআর গাইডলাইনের অধীনে এই শংসাপত্র গ্রহণ করা যাবে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী ইআরও ও এইআরও-রা শুধুমাত্র সেই স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্রই গ্রহণ করবেন, যা ইস্যু করবেন জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক অথবা কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টর। অন্য কোনও কর্তৃপক্ষ বা পদাধিকারীর ইস্যু করা শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।
এছাড়াও জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৭৪৮২(১৭)-পি নম্বরের চিঠি এবং পরবর্তী নির্দেশ অনুসারেই এই সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হবে। নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে ইস্যু করা কোনও নথি এসআইআর প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

কমিশনের পদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই চিঠির মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করাই কমিশনের মূল উদ্দেশ্য। তবে শুনানি পর্বের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এই বিভ্রান্তি দূর করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে মন্তব্যে নারাজ পদস্থ আধিকারিকরা। তবে এজন্য যে শুনানি প্রক্রিয়ায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হবে তা স্বীকার করেছেন তাঁরা। এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই চর্চা শুরু হলেও সিইও দপ্তর কেন আগেই কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। তবে একাংশের মতে,
এই শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে যেভাবে কমিশনের নির্দেশিকা বা গাইডলাইন অমান্য করা হচ্ছিল সেটাই দেরিতে হলেও সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিষয়টির বাস্তবতা বুঝে আসন্ন ভোট প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও আইনি জটিলতা না তৈরি হয়, সেই কারণেই এই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

Share with