সুপ্রিম নির্দেশই সার, সময় পেরোলেও নির্দিষ্ট তালিকা পৌঁছয়নি কমিশনে, বি গ্রুপ কর্মী নিয়েও বিভ্রান্তি
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
নির্দিষ্ট সময মেয়াদ পেরোলেও সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত রাজ্য সরকারের গ্রুপ বি আধিকারিকের নির্দিষ্ট তালিকা পৌঁছয়নি রাজ্য সিইও দপ্তরে।
ফলে ৮,৮০৫ গ্রুপ বি কর্মীদের মাইক্রো অবজার্ভারদের বিকল্প হিসেবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সোমবারই রাজ্য সরকারের কাছে ৮,৮০৫ গ্রুপ বি কর্মীদের নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্যসহ পাঠাতে বলা হয় সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে। অথচ আদালতের নির্দেশের ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও তা পাঠায়নি রাজ্য বলে সিইও দপ্তর সূত্রে খবর। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ডেডলাইন (বিকেল ৫ টা) পেরিয়ে গেলেও তা পাঠাতে পারেনি রাজ্য। এতা যে আদালত অবমননার সামিল সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন কমিশনের পদস্থ আধিকারিকরা।
পাশাপাশি হোয়াটস্যাপে নির্দিষ্ট আধিকারিকের মাধ্যমে সিইও দপ্তরে যে নাম তালিকা পাঠানো হয়েছে সেখানে গ্রুপ বি কর্মী তালিকা নিয়েও যথেষ্ট বিভ্রান্তি রয়েছে বলে অভিযোগ। তালিকায় বহু পদাধিকারী রয়েছেন যারা সরকারিভাবে গ্রুপ বি পর্যায়ের কর্মী কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক, আমিন, ক্লার্ক কাম টাইপিস্ট, আপার ডিভিশন ক্লার্কের একাংশ, অফিস অ্যাসিস্টেন্ট, সুপারভাইজার ছাড়াও বেশ কিছু পদাধিকারী বি গ্রুপ বা গ্রেজেটেড অফিসার কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কমিশনের পদস্থ আধিকারিকদের মধ্যেই। তাছাড়া ৮,৫০৫ কর্মীদের হোয়াটস্যাপ তালিকায় এমন কর্মীদের নাম রয়েছে যাদের মধ্যে অনেকেই এইআরও-র দায়িত্ব পালন করছেন অথবা শুনানি নথি যাচাইয়ের কাজে ইতিমধ্যেই যুক্ত বলেও জানা গেছে। যাদের চিহ্নিত করতে নির্দিষ্ট তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। পদমর্যাদার এই বিভ্রান্তি দূর করতেই কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা বায়োডেটা প্রয়োজন যা অগেই চাওয়া হলেও তা পাঠায়নি নবান্ন বলে অভিযোগ।
সমস্যা রয়েছে এই বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মীদের তথ্য যাচাইয়ের কাজে নিয়োগ নিয়েও। এই ৮,৫০৫ কর্মীদের দিয়ে যদি নথি যাচাইয়ের কাজ করাতে হয় তাহলে সকলকে লগ ইন আইডি দিতে হবে যার জন্য তাঁদের প্রত্যেককে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিয়োগপত্র দিতে হবে। লগ ইন তৈরি করতে প্রয়োজন প্রত্যেকের ভোটার আইডি কার্ড। নাহলে তাঁদের নিয়োগ অর্থহীন হয়ে পড়বে। কমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন এর আগে যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে যাতে তাঁদের নিজেদের জেলার পোস্টিং না হয় অথবা ওই নির্দিষ্ট জেলায় তাঁর অফিস না থাকে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছিল। নতুন ৮,৮০৫ জনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বর্তাবে। সেজন্য সিইও দপ্তর যে তথ্য চেয়েছিল তা জরুরি ছিল বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। এদিকে, মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যে শুনানির জন্য ডাকা মোট ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি সম্পূর্ণ হয়েছে। শুনানির নোটিশ তৈরি হলেও ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার নোটিশ এখনও সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়িতে পৌঁছয়নি। নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবারই বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানির কাজ শেষ হবে, নথি যাচাই ও ডিসপোজালের কাজ শেষ হবে ২১ ফেব্রুয়ারি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ৮,৮০৫ বি গ্রুপ কর্মীকে নথি যাচাইয়ের কাজে যুক্ত করতে গেলে যতটা সময় ব্যয় হবে ততদিনে শুনানির নথি যাচাইয়ের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরাই। সব মিলিয়ে এই ৮৮০৫ জন রাজ্য সরকারি কর্মীর এসআইআর-এর কাজে ভবিষ্যৎ কি তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান কমিশনের পদাধিকারিরাই।

