Uncategorized

সুতোয় ঝুলছে রাজনৈতিক ভাগ্য! শর্তপূরণ না করে প্রশ্নের মুখে ঘিসিংয়ের জিএনএলএফ

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

নির্বাচন কমিশনের খাতায় কি অস্তিত্ব হারাতে চলেছে সুভাষ ঘিসিংয়ের জিএনএলএফ বা গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট? নাকি এনডিএ সহযোগী পরিচয়ে এ যাত্রায় পার পেয়ে যাবে একদা দার্জিলিং তথা পাহাড়ি রাজনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। কারণ নির্বাচন কমিশনের শর্ত অনুযায়ী রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনী খাতায় নাম নথিভুক্ত রাখতে হলে প্রতি পাঁচ বছরে একটি নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, দলের আয়-ব্যয়ের প্রতি বছর অডিট করাতে হবে এবং দলীয় দফতর ও কর্মি মণ্ডলীর যথাযথ গঠন থাকতে হবে। তৃতীয় শর্তের কিছুটা পুরণ করলেও মূল দুটি শর্ত পুরণ করতে পারেনি সাড়ে তিন দশক পেরিয়ে যাওয়া ঘিসিংয়ের জিএনএলএফ। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ডাকা হিয়ারিংয়ে হাজির হন ঘিসিং পুত্র তথা দলীয় প্রেসিডেন্ট মন ঘিসিং। হিয়ারিংয়ে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত সিইও অরিন্দম নিয়োগী এবং ডেপুটি সিইও সুব্রত পাল। কমিশনের শর্ত পুরণের প্রশ্নে মন ঘিসিং আধিকারিকদের জানান জিএনএলএফ এনডিএ-র সহযোগী বা শরিক হিসেবে যুক্ত থাকায় গত পাঁচ বছরে একক দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। একথা তাঁরা আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জানিয়েছিলেন বলেও দুই আধিকারিককে জানান মন ঘিসিং। তবে আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বাৎসরিক অডিট যে তাঁরা করাননি সেকথাও মেনে নিয়েছেন জুনিয়র ঘিসিং।

শুধু জিএনএলএফ নয়, এদিনের হিয়ারিংয়ে হাজির হওয়া দ্বিধাবিভক্ত কামতাপুরি প্রগ্রেসিভ পার্টির দুপক্ষের কর্তারা এবং আরও দুটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি যারা নির্বাচন কমিশনে রেজিস্টার্ড হলেও অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলের তালিকাভুক্ত। হিয়ারিংয়ে হাজির হলেও কমিশনের শর্ত পূরণে তিনটি দলই অপারগ। এদিন মোট এধরনের ১২টি দলকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। আটটি দল হিয়ারিংয়ে গরহাজির থাকায় তাদের নাম নির্বাচনী খাতা থেকে বাদ যাওয়া কার্যত নিশ্চিত।
তবে নিয়ম মেনে আজকের হিয়ারিংয়ের রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে সিইও দফতর। সেক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার যুক্তি এবং অডিট করানোর শর্তপূরণে ব্যর্থতার জেরে নির্বাচনী দল হিসেবে কমিশনের খাতায় লিপিবদ্ধ থাকতে পারে কিনা ঘিসিংয়ের জিএনএলএফ তা এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। উল্লেখযোগ্য, এরাজ্যে ৭২টি অস্বীকৃত অথচ রেজিস্টার্ড এ ধরনের রাজনৈতিক দল রয়েছে যাদের অধিকাংশেরই টেলিফোনে বা ডাকযোগে চিঠিপত্র পাঠিয়েও যথাযথভাবে কোন সাড়া মেলেনি। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত সুভাষ ঘিসিং-এর
জিএনএলএফ। এখনও পর্যন্ত দু দফায় এ ধরনের রাজনৈতিক দলগুলিকে হিয়ারিংয়ে ডেকেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। প্রথম দফায় এধরনের আটটি দলকে ডাকা হলেও হাজির ছিল একমাত্র প্রাক্তন ডিজিপি নজরুল ইসলামের দল। বাকি সাতটি দলকে নির্বাচনী কমিশনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় ১২টি দলকে ডাকা হয়। যেখানে চারটি দল হাজীর হয়। এদের মধ্যে মূল আলোচ্য নামটি অবশ্যই সুভাষ ভিসিংয়ের জিএনএলএফ। তবে নির্বাচন কমিশনের খাতায় জিএনএলএফ-এর রাজনৈতিক ভাগ্য এখন সুতোয় ঝুলছে একথা হলপ করে বলা যায়।

Share with