হেডলাইন

তফসিলি জাতি শংসাপত্র পেতে নিয়মের সরলীকরণ করতে চায় রাজ্য সরকার

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

মা-বাবার তফসিলি জাতি (এসসি) শংসাপত্র না থাকলে এই শংসাপত্র পেতে এতদিন রক্তের সম্পর্ক থাকা দুজনের শংসাপত্র থাকা ছিল বাঞ্ছনীয়। এবার সেক্ষেত্রে নিয়মের সরলীকরণ করে নিদেনপক্ষে একজনের শংসাপত্র দিলেই চলবে এধরনের সিদ্ধান্তের কথা বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে রাজ্যের তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে রিভিউ বৈঠকে এই ধরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রীও সায় দিয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। তফসিলি জাতি সংক্রান্ত শংসাপত্র পাওয়ার তালিকায় কোনও অযোগ্যরা যাতে স্থান না পায় সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে বৈঠক সূত্রে খবর। রাজ্য তফসিল জাতি উন্নয়ন পর্ষদের ডাকা এই বৈঠকে পৌরহিত্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের তফসিলি জাতিভুক্ত রাজ্যের সমস্ত মন্ত্রী, বিধায়ক ও সাংসদ সহ দফতরের সচিব ও আধিকারিকরা।

এই বৈঠকে তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষজনের জন্য যে সরকারি পরিষেবা প্রদান করা হয় সেগুলো নিয়ে কোন ধরনের গাফিলতি যেন না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে মতুয়া, নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের জন্য যে বিশেষ উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সেগুলোর বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে বৈঠক সূত্রে খবর। বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূল রাজ্যসভা সাংসদ তথা মতুয়া মহাসংঘের নেত্রী মমতাবালা ঠাকুর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান মতুয়াদের জন্য যে বিশেষ উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে তা যথোপযুক্ত কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করুক। মুখ্যমন্ত্রী ও সে ব্যাপারে মতুয়া সাংসদকে আশ্বস্ত করেছেন। মমতাবালা ঠাকুর মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন বাগদাতে একটি ভবন তৈরি করা হয়েছিল ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের জন‍্য। বি আর আম্বেদকরের নামে ওই স্কুলটি চালু হযনি। যাতে শীঘ্রই চালু করা যায় সেটির আবেদন করেছেন।
মালদহে প্রচুর মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ( উদ্বাস্তু) রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা বসবাস করছেন॥ যদি তাঁদের পাট্টার ব্যবস্থা করা যায় সেটিও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী পুরো বিষয়গুলি খুঁটিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
তৃণমূলের অপর সাংসদ প্রতিমা মন্ডল বৈঠকে যোগ্যশ্রী প্রকল্পের প্রচার ও প্রসার নিয়ে সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তরবঙ্গে এই প্রকল্পের যথেষ্ট সুফল মিলছে না বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়ন পর্ষদকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য, মমতা বালা ঠাকুর রাজ্যসভা সাংসদ হওয়ার পর রাজ্য তফশিলি জাতি উন্নয়ন পর্ষদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ পর্ষদের চেয়ারপারসন ছিলেন মমতাবালা নিজেই। তিনি সাংসদ হয়ে যাওয়ায় নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পর্ষদ কোন কাজ করতে পারবে না। এই অসুবিধা দূর করতে দ্রুত এই উন্নয়ন পর্ষদের নয়া চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে প্রসাদকে কার্যকরী করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Share with