হেডলাইন

যৌনকর্মীদের জন্য সোনাগাছিতে বিশেষ ক্যাম্প ৯ ডিসেম্বর, কথা রাখল সিইও দপ্তর

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

যৌনকর্মীদের আবেদনকে মান্যতা দিয়ে কলকাতার সোনাগাছির যৌনপল্লিতে আগামী ৯ ডিসেম্বর এনুমারেশন ফর্ম সংক্রান্ত বিশেষ ক্যাম্প করবে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংগঠনগুলিকে সেকথা জানিয়েছে রাজ্যের সিইও দপ্তর।

মূলত, উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর বিধানসভার অন্তর্গত সোনাগাছি যৌনপল্লীতে প্রায় সাত হাজার এ ধরনের ভোটার রয়েছেন যাদের মধ্যে অনেকেরই এখনও পর্যন্ত ভোটার কার্ড নেই। অথবা ভোটার কার্ড থাকলেও তাদের বাবা-মা অথবা পূর্বপুরুষদের কোন পরিচয় যেমন নেই তেমনি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাদের নাম নেই। তার থেকে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সদ্য ১৮ পেরোনো নতুন প্রজন্মের ভোটার যারা নতুনভাবে ২৬ এর নির্বাচনে ভোটার হতে আগ্রহী, তাদের পিতৃপরিচয় বা পূর্বপুরুষের পরিচয় নিয়ে জটিলতা থাকায় আদৌ তারা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল।
বহু যৌনকর্মীর ক্ষেত্রে পিতৃপরিচয় বা পূর্বপুরুষদের পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। নাম গোত্রহীন বহু এমন ভোটার এই যৌনপল্লীতে রয়েছেন যারা তাদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে চান। নির্বাচন কমিশন নির্দেশিত এস আই আর প্রক্রিয়া তাদের ভোটদানের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাস্তব সমস্যার মুখে দাঁড় করিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিএলও-দের মাধ্যমে যথাযথভাবে এনুমারেশন ফর্ম পুরণ করার ক্ষেত্রে নিজেদের আড়ালেই রেখেছিলেন যৌনপল্লির যোগ্য ভোটাররা।
এনুমারেশন ফর্ম সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি দিয়েছিল যৌনকর্মী এবং তাঁদের সন্তানদের জন্য কাজ করা তিনটি সংগঠন- ‘সোসাইটি অফ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাকশন’, ‘উষা মাল্টিপার্পাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ এবং ‘আমরা পদাতিক’। চিঠির প্রত্যুত্তরে রাজ্যের সিইও দপ্তর যৌন কর্মীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছিল, হিয়ারিং-এর সময়ে যৌন কর্মীদের জন্য বিশেষ হিয়ার ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে সিইও নিজের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ক্যাম্পের উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান। এমনকি সশরীরে রাজ্যের সিইও উপস্থিত থাকবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এনুমারেশন ফর্ম পুরণ করতে হবে এই আতঙ্কে অনেকেই যৌনপল্লি ছেড়ে পালাচ্ছেন বলে জানানো হয়। আর এরপরেই সিইও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ‘ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার’ (ডিইও) এবং ‘ইলেকট্রোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’-দের সঙ্গেও কথা বলেন। অবশেষে সোনাগাছির যৌনপল্লির জন্য সুখবর জানালো কমিশন। উত্তর কলকাতার ডিইও জানান, আগামী ৯ ডিসেম্বর কলকাতার সোনাগাছির বিভিন্ন ওয়ার্ডে এনুমারেশন ফর্ম সংক্রান্ত এই বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সোনাগাছির বিভিন্ন ওয়ার্ডে পৌঁছে যাবেন কমিশনের আধিকারিকরা। সেখানে পৌঁছে এনুমারেশন ফর্ম সংক্রান্ত যৌনকর্মীদের সমস্যার কথা শুনবেন তাঁরা এবং সহায়তা করবেন। জানা গেছে, যৌন কর্মীদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে স্পেশাল কেস হিসেবে এনু মারেশন ফর্ম পুরণ করা হবে। অবশ্য, সোনাগাছি ছাড়া কলকাতার অন্যান্য যৌনপল্লির জন্য এধরনের উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

২০০৭ সালে তৎকালীন সিইও দেবাশিস সেন সোনাগাছির যৌনপল্লীর ভোটারদের জন্য ভোটার কার্ড ইস্যু করার ব্যবস্থা করেছিলেন। পরে ২০১০ এর কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় বিশেষ ড্রাইভের মাধ্যমে সোনাগাছির যোগ্য ভোটারদের ভোটার কার্ডের ব্যবস্থা করলেও পরিচয় গোপন রাখার তাগিদে বহু ভোটার আড়ালেই থেকে যান। অবশ্য, ২০০২ সালের ভিত্তি বর্ষের সময় এই ভোটারদের ভোটার কার্ড ছিল না বললেই চলে। আর সেখানেই এবারের এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেধেছে বিপত্তি, সোনাগাছির যৌনকর্মীদের মধ্যে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে যাদের ঘরের মাটি ছাড়া দূর্গাপুজো অসম্পূর্ণ থেকে যায় তাদের ভোটাধিকার অক্ষুন্ন রাখতে অবশেষে কমিশনের সবুজ সঙ্কেত নিয়ে সোনাগাছিতে আগামী ৯ ডিসেম্বর বিশেষ ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছে।

Share with